Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:০৬
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:২৯

ফেরির ক্যান্টিনে পচা-বাসি খাবার ও উচ্চমূল্য, যাত্রীরা অসহায়

নাহিদুর রহমান হিমেল:

ফেরির ক্যান্টিনে পচা-বাসি খাবার ও উচ্চমূল্য, যাত্রীরা অসহায়

দেশের অন্যতম একটি নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া। ব্যস্ততম এই নৌরুটে চলাচলরত ফেরির ক্যান্টিন পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পচা-বাসি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ছাড়াও রয়েছে উচ্চমূল্যের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যাত্রীদের একপ্রকার 'গলা কাটছেন' ক্যান্টিন পরিচালকরা। এদিকে বার বার অভিযান চালিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ছোট-বড় (ইউটিলিটি-রো রো) ১৬টি ফেরি এ রুটে চলাচল করছে। গড়ে একটি ফেরি প্রতিদিন ২০-২২ বার যানবাহন পারাপার করে থাকে। সে হিসেবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ রুটে ফেরি পার হয়ে থাকেন। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ফেরিতে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হলেও তাতে রয়েছে নানা অভিযোগ।

যাত্রীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে শাহ আলী ও বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন রো রো ফেরির ক্যান্টিন ঘুরে দেখা যায়, ক্যান্টিনের তিনটি অংশের বৃহৎ জায়গা জুড়ে খাবারের হোটেল, একটি টি স্টল ও একটি ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। খাবারের হোটেলে এক প্লেট ভাত, এক পিস ইলিশ মাছ আর ডালের দাম রাখা হচ্ছে ১৫০ টাকা। এছাড়া খাসির মাংস ১৫০, গরু ১৪০ এবং অন্যান্য মাছ ১০০-১২০ টাকা দাম রাখা হচ্ছে।বোতলজাতকৃত কোমল এবং সুপেয় পানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫-৭ টাকা বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ফেরিতে বসে চা-বিস্কুট-কেক খেয়েও তৃপ্তি পান না যাত্রীরা। এক কাপ রং চা ১০ টাকা, দুধ চা ১৫ টাকা। আর বিস্কুট-কেকসহ সকল পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫-৭ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। তবে চা-তে ব্যবহৃত পানি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এমন চিত্র অন্য ফেরির ক্যান্টিনেও।

হাফিজুর রহমান নামের রাজবাড়ীগামি এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেরিতে উঠে কোনকিছু কিনেই শান্তি নেই, সবকিছুতেই অতিরিক্ত দাম। একপ্রকার বাধ্য হয়েই ১৫ টাকার এক বোতল পানি ২০ টাকা দিয়ে কিনলাম।

অভিযোগের ব্যাপারে বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন রো রো ফেরির ক্যান্টিন পরিচালক কবির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুরো ক্যান্টিন দৈনিক ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। ভাড়া বেশি, আবার বেচা-বিক্রিও কম, তাই একটু বেশি দাম রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, ক্যান্টিন ভাড়া কমালে কোনো কিছুরই অতিরিক্ত মূল্য রাখার প্রয়োজন হবে না।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম ভাড়া কমানোর জন্য কিন্তু তারা এতে পাত্তা দেয়নি। অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তবুও আমরা ক্যান্টিন মালিকদের পণ্যের গায়ের মূল্য অনুযায়ি পণ্য বিক্রি করতে বলেছি।

তিনি ভোক্তাদের অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যেহেতু ফেরির ক্যান্টিনে কোন ভাউচার দেওয়া হয় না, তাই কোন ভোক্তা চাইলে পণ্যের মূল্য বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন গোপন ভিডিওসহ আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে আমরা অভিযান চালিয়ে জরিমানা করবো এবং জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে দেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খান রুমেল বলেন, মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। ২ মাস আগে তিন ফেরিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ পেলে আরও ভালো হয়।

বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রাসেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিবছর ক্যান্টিন ভাড়া দেওয়া হয়। ঠিকাদাররাই বেশি ভাড়া দিয়ে ক্যান্টিন ইজারা নেন। এতে আমাদের কিছু করার নেই।

তিনি আরো বলেন, বড় ফেরিতে দৈনিক ভিত্তিতে ১০ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যান্টিন ইজারা নেন ঠিকাদাররা। তারা কম টাকা দিয়ে ইজারা নিলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য