বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

বগুড়ায় ৭০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় ৭০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

বগুড়ায় ৭০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

পথে পথে কাগজ কুড়াচ্ছিলেন আছিয়া খাতুন। একবেলা খাবারের জন্য তাকে খুঁজে বেড়াতে হয় পথে পড়ে থাকা কাগজ। সারাদিন কুড়িয়ে কুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বিকালে বিক্রি করেন দোকানে। সেখান থেকে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, তা দিয়ে একবেলা খেতে পারেন আছিয়া। 

৪০ বছর ধরে স্বামীকে হারিয়ে এভাবেই চলছে তার জীবন। এমনি একদিন তাকে পথের কোণে বস্তা হাতে বসে থাকতে দেখেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। হাতে তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ সহায়তার টোকেন। আছিয়া বুঝতে পারেন না কাগজের একটি ছোট টুকরা কেন দেওয়া হলো তাকে। জিজ্ঞেস করতেই শুভসংঘের সদস্যরা জানালেন, বুধবার সকালে তাকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি ডাল আর ৩ কেজি আটা দেওয়া হবে। কথাটি শুনে খুশি হলেন আছিয়া। তাদের জন্য দোয়া করে আবার পথে কাগজ কুড়াতে শুরু করেন তিনি। 

আজ বুধবার সকালে সময় মতো ত্রাণ নিতে আসেন আছিয়া। টোকেন দেখে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী। খাবারের বস্তা হাতে পেয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলেন আছিয়া। বললেন, “বাসি মুখে দোয়া করি বসুন্ধরা গ্রুপের যেন ভালো হয়, ভালো থাকে। তারা যেন আমাগো আরও বেশি বেশি দিতে পারে।”

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়েছেন মানবেতর জীবনযাপন করা আজাজ আলী প্রামাণিক। তিনি বলেন, “আমি এহন কামকাজ করতে পারি না। ছোট ছেলে স্বর্ণের দোকানে কাম করতো তাও এখন করতে পারে না। আমার স্ত্রী স্কুলে আয়ার কাম করে মাসে ২ হাজার টাকা পায়, তা দিয়েই টুকটাক সংসার চলে। তোমাদের ত্রাণ পেয়ে আমাদের ৭-৮ দিনের দুঃখ ঘুচিল বাবা। এই অসময়ে তোমরা ত্রাণ দিছো আমি নামাজ পড়ে দোয়া করব।”

বুধবার আছিয়া-আজাজের মতো বগুড়া জেলার সদর উপজেলায় ৭০০ অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে বগুড়া জেলায় ৪ হাজার ও রাজশাহী বিভাগে ২৪ হাজার পরিবারকে এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

এদিন উপজেলার বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন শুভসংঘের সদস্যরা। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। তিনি বলেন, “আজকের ত্রাণ বিতরণের আয়োজনটি আমার কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশে যত ভালো কাজ হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। আমাদের বগুড়া জেলা সদরে আজ ৭০০ অসহায় পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছে। পুরো জেলায় মোট ৪ হাজার পরিবারকে এই সহায়তা দেবে। করোনা মহামারীর সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘ এত চমৎকার একটি আয়োজন করে আমাদের ভাই-বোনদের অন্তত কিছুদিন ঘরে থাকার জন্য খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে, এজন্য আমরা তাদেরকে প্রাণ থেকে সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সবাই করোনা মহামারীর এই সময়ে কেউ অযথা ঘর থেকে বের হবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক পরে থাকবেন। সবাই ভালো থাকবেন।”

এছাড়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও কালের কণ্ঠের বগুড়া অফিসের ব্যুরো প্রধান লিমন বাশার, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, শুভসংঘের বগুড়া জেলার উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান আকন্দ ও মোস্তাফা মাহমুদ শাওন, জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামপদ মুস্তফী,বাংলাদেশ প্রতিদিন বগুড়া অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুর রহমান টুলু, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আবদুস সালাম বাবু, শুভসংঘের বগুড়া সদস্য জান্নাত আক্তার, মিনা ইসলাম, শুভসংঘের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. সিরাজুল ইক ফাহিম, সহ-সভাপতি ডা. শফিক আমিন কাজল, সাধারণ সম্পাদক শিশির মুস্তাফিজ। 

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন মশিউর রহমান জুয়েল, আশফাকুর রহমান চন্দন, আমজাদ হোসেন, শরিফুর রশিদ, আল আদোল আপন, রাকিব আহমেদ, রুমানা ইয়াসমিন, নাহিদ সৌরভ, আব্দুর রহিম, জান্নাত আক্তার বর্ষা, রাফসান সাকিন, বগুড়া মহিলা কলেজের সাধারণ সম্পাদক ইরা মনি, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনি ও গণবিশ্ববিদ্যালয় শাখার অর্থ সম্পাদক মিম খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এর আগে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ২৪ হাজার অসহায় ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিডি প্রতিদিন/কালাম

এই বিভাগের আরও খবর