শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ মে, ২০২০ ০৪:২২

প্রবাসে ঈদ আনন্দ উদযাপন

ফারুক আহাম্মেদ মোল্লা, বেলজিয়াম থেকে

প্রবাসে ঈদ আনন্দ উদযাপন
ফাইল ছবি

ঈদ মানে আনন্দ, আর এই আনন্দটা তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন তা পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। আমরা যারা প্রবাসে থাকি, ঈদ তাদের জন্য এক ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে আসে। কারণ প্রবাসে আমরা অনেকেই পরিবার-পরিজন, প্রিয়তম স্ত্রী, মমতাময়ী মা, প্রিয় বাবা, স্নেহের সন্তান, আদরের ভাইবোন ছাড়া ঈদের দিনটি অতিবাহিত করি। আর তাই ঈদের দিনটা এখানেঅনেকটাই আনন্দ-বেদনায় মিশ্রিত একটা দিন। 

প্রবাসীদের মনটা থাকে দেশে আর দেহটা থাকে বিদেশে। বিশেষ করে পৃথিবীর বহু দেশেই প্রবাসীদের পরিবারবিহীন একাকী থাকতে হয়। আর জীবন সংগ্রামের এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রবাসীরা ঈদ উদ্যাপনকরেন। টেলিফোনে অথবা স্কাইপে, ভাইবারে বা ম্যাসেঞ্জারে প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলেন। অনেকেই হয়তো মরুভূমির মরীচিকায়নিজের দুঃখটাকে মিশিয়ে দিয়ে কাজেও যান।

এ বছর অন্যরকম একটি ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছি আমরা। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য এমন ঈদ আগে কখনো আসেনি। এবারের ঈদ কষ্টের, এবারের ঈদ হচ্ছে বেদনার। এবারের ঈদ স্বজন হারানোর এবং বন্দিদশার মধ্যে ঈদ। করোনা দিনের ব্যতিক্রমী এক ঈদ পুরো বিশ্বের তথা বেলজিয়ামের। কারণ বেলজিয়াম লকডাউন ৭ জুন পর্যন্ত চলবে। সুতরাং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে সবাইকে। ঘরে বসেই ঈদের নামাজ পড়তে হবে।

ঈদের দিন প্রবাসীদের মনে ভীষণভাবে দাগ কাটে পেছন স্মৃতিগুলোর কথা স্মরণ করে। মায়ের হাতের রান্না করা ফিন্নি পায়েস খেয়ে ঈদের মাঠে যাওয়া। সহধর্মিণীর প্রেম ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া। কলিজার টুকরো খোকা খুকির মায়া জড়ানো আব্বু ডাকটির কথা। তাদেরকে নতুন জামা কাপড় পড়িয়ে ঈদগাহে নিয়ে যাওয়ার কথা। এসব হাজারো স্মৃতির কথা ভেবে ভেবে কষ্টের অনলে জ্বলতে জ্বলতে নিজে যেমন দগ্ধ হয়, তেমনি সে ভাবতে থাকে তার মা-বাবা স্ত্রী-সন্তান তাকে ছাড়া ঈদ করতে গিয়ে তারাও কতো কষ্ট ব্যথাহৃদয় মনে পোষণ করে ঈদের দিনটি কাটায়।

অনেক প্রবাসীরা আবার তাদের কষ্টগুলোকে পাত্তা না দিয়ে ঈদের দিন চুটিয়ে আনন্দ করে বেড়ায়। একাকী রুমে বসে না থেকে ছুটে যায় প্রিয় বন্ধু বন্ধবদের বাসায়। কেউবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যায় সুন্দর থেকে সুন্দরতম কোন লোকেশনে। আড্ডায় আড্ডায়পার করে দেয় পুরো ঈদের দিন। এভাবেই প্রতিটি প্রবাসী বিদেশ বিভূয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। শুধুমাত্র জন্মভূমির রেমিটেন্স বৃদ্ধি এবং নিজের পরিবারের সুখের আশায়। তাদের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটানোর প্রচেষ্টায়।

এই করোনার কারণে সৃষ্ট অভাব আমাদের আবার মনে  করিয়ে দিল যে সাধ তা কোনো কালে পূরণ হওয়ার নয়, সাধ্যের মধ্যেই আছে সকল সত্য। চলুন সবাইকে সাথে নিয়ে বাঁচি। আর সেটাই হবে এই করোনা আক্রান্ত পৃথিবীতে ফেইজবুক আর  ইউটিউবে ঈদের আনন্দ করি।

 

বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর