শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৪৭
প্রিন্ট করুন printer

অমর একুশের চেতনা বাঙালি জাতির কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ

অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ

অমর একুশের চেতনা বাঙালি জাতির কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ
অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ

একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতি হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যের দাবি ঊর্ধ্বে তুলে ধরার ঐতিহাসিক দিন। মাতৃভাষার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ জাগ্রত তারুণ্যের প্রতিনিধিরা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে কূপমন্ডক শাসকদের লেলিয়ে দেয়া পুলিশের গুলিতে আত্মোৎসর্গ করেছিলেন। তাদের সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে তৎকালীন শাসকরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়েছিল। অন্যদিকে ভাষার জন্য জীবন দেয়ার বিরল ইতিহাস রচনার সুবাদে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। হাজার বছরের লালিত স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও আত্মমর্যাদার দাবিকে অগ্রাহ্য করার বিরুদ্ধে বায়ান্নতে রুখে দাঁড়ানোর শাণিত চেতনার পথ বেয়ে দেশের মানুষ পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এগিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, স্বাধিকার সংগ্রাম এবং একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনার মধ্যে মহান ভাষাশহীদদের আত্মদান এবং এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফল্গুধারার মতো প্রবাহমান ছিল।

মানুষের আবেগ-অনুভূতি সব কিছুই ব্যক্ত হয় মাতৃভাষায়। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, গর্বের ভাষা। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও এ ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের স্বাধীন দেশ আছে, আছে অতিসমৃদ্ধ এক ভাষা। তবে এ ভাষার জন্য অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে।
অমর একুশের চেতনা বাঙালি জাতির কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বুকের রক্ত দিয়ে গেছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো অনেকে। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আমাদের মাতৃভাষাকে সমুন্নত করেন। কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ছে, বিশ্বময় বাংলা ভাষা ছড়িয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিকভাবে আজ এই ভাষা স্বীকৃত। আজ আমাদের ভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়, যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হয়। এর চেয়ে গৌরবের আর কী থাকতে পারে।  
আমরা জানি, দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ বাংলা ভাষাতেই কথা ও কাজ চালিয়ে থাকে। শিক্ষার মাধ্যম হিসেবেও বাংলা সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু দাফতরিক যোগাযোগ এবং বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের লৈখিক তৎপরতায় ইংরেজিরই প্রাধান্য। এর একটি কারণ সম্ভবত ঔপনিবেশিক আমলের ভিত্তিমূলে গড়ে ওঠা আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মানসিকতা। আমরা দেখি, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানির মতো প্রভাবশালী দেশ তো বটেই, বুলগেরিয়া, তুরস্কের মতো অপেক্ষাকৃত কম প্রভাবশালী দেশও নেহাত প্রয়োজন ছাড়া ইংরেজি ব্যবহার করে না।
ভাষার জন্য জীবন দেওয়া এবং বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তস্নাত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে তা সম্ভব হবে না কেন? বাংলা ভাষার গৌরব, বিজ্ঞানসম্মত কাঠামো এবং বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতিও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক। সব পক্ষ উদ্যোগী ও আন্তরিক হলে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বাড়ানো অবশ্যই সম্ভব।
১৯৯৯ সালে সরকারি জোর প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমরা আমাদের ভাষাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছি না। সাইনবোর্ড লেখা হয় ইংরেজিতে। বাংলা লেখা হলে বানানে থাকে ভুল। বাংলা একাডেমিও এ ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু সফলতা আসেনি। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বাংলা ভাষা সংরক্ষণে আরো জোরদার ভূমিকা রাখতে হবে। এ দেশে এখনো অনেক ভাষাসৈনিক জীবিত আছেন, যাঁরা অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। তাঁদের পাশে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। 

লেখক: অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সভাপতি সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৩০
প্রিন্ট করুন printer

ঝরা পাতাদের গল্প...

গোলাম রাব্বানী

ঝরা পাতাদের  গল্প...
প্রতীকী ছবি

গল্প শুনবে, গল্প?
ঝরা পাতাদের গল্প?
আজ হঠাৎ বিকেল বেলা
পিচঢালা পথের ধারে
দেখা হলো ঝরা পাতাদের।
 
বেশ চুটিয়ে আড্ডা 
দিচ্ছেন তারা,
দুঃখ কষ্টের গল্প
বলছে মন খুলে।
রাজনীতি, অর্থনীতি
প্রেম, বিরহ সবই 
ছিল তাদের আলোচনায়।

তবে তাদের আড্ডার 
শুরুতে ছিল শোক প্রস্তাব
সকল ঝরা পাতার জন্য। 
দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা 
পালন করলেন তারা।

তবে ঝরে পড়া নিয়ে 
কোনো দুঃখ নেই তাদের,
শুধু নিয়ম মানতেই এই নিরবতা।
নতুন পাতার আগমনী বার্তায়
উচ্ছ্বসিত তারা, অনেকেই 
গুণগুনিয়ে গানও গাইছেন।

আমি অনুমতি 
না নিয়েই যোগ দিয়েছিলাম 
ঝরা পাতাদের আড্ডায়,
শুনছিলাম তাদের গল্প।
ভাবছিলাম, আমার উপস্থিতি
তাদের নজর এড়িয়ে যাবে।
কিন্তু না, হঠাৎ করে 
ঝরা পাতাদের রাজা
দৃষ্টি দিল আমার দিকে,
মিটিমিটি হেসে বলল
তুমি কেন গো
আমাদের আড্ডায়?
তুমিও কী জীবনযুদ্ধে 
হেরে যেতে বসেছো?
মনুষ্য জাতির দেওয়া 
কষ্টে অতিষ্ঠ?
আসলে মনুষ্য জাতি
শুধু নিতে জানে, 
দিতে জানে না
হঠাৎ রং বদলায়
ভুলে যায় অতীতকে।

তার কথা শুনে একটু 
ভাবনায় পড়ে গেলাম,
রাজা তো ঠিকই বলেছে!
তাই আর সময় না নিয়ে
সায় দিলাম রাজার কথায়। 
রাজার হাতে হাত রেখে
যোগ দিলাম তার দলে।
বললাম, আজ থেকে
আমিও ঝরা পাতাদের দলে।

সব কিছু বিসর্জন দিয়ে
হয়ে গেলাম একলা...
শুধুই একলা...
আর পিছনে ফিরে 
তাকানো নয়
একাকী পিচ্ছিল পথে এগিয়ে চলা...

 

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩২
প্রিন্ট করুন printer

অ্যাসাইনমেন্ট

নাইম আবদুল্লাহ

অ্যাসাইনমেন্ট
প্রতীকী ছবি

সাইদুরের মন আজ সকাল থেকেই বিগড়ে আছে। গ্যারেজের মালিক তাকে একটি প্রায় অচল ইজি বাইক ধরিয়ে দিয়েছে। প্লাগে কি যেন সমস্যা আছে। স্টার্ট নিতে খুব ঝামেলা করে। গারেজে আর কোন ইজি বাইক নাই। মনে মনে সে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলে শালার যেখানে যাই সেখানেই কপাল পোড়া। তার উপর ঢাকায় ছোট বোনের ভার্সিটির হোস্টেল খরচের টাকা পাঠাতে হবে। 

সন্ধ্যায় খুলনার ডাক বাংলোর মোড় থেকে ফুলতলায় সব যাত্রী নামিয়ে নুতন যাত্রী উঠানোর সময় একজন তার হাতে একটি ফোল্ডার ধরিয়ে দিলো। কোন যাত্রী নামার সময় ভুলে ফেলে গেছে। সাইদুর ডাক বাংলোয় ফিরে সব যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আবার যাত্রী উঠাতে যাবে এমন সময় কাগজের ফোল্ডারটি চোখে পড়লো। একবার ভাবল পাশের ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। আবার কি ভেবে ফোল্ডারটি হাতে নিয়ে ভেতরটায় চোখ বুলালো। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যায় তৃতীয় বর্ষে অনার্স পড়ুয়া একটি মেয়ের ক্লাসের ফোল্ডার। তার একটা অ্যাসাইনমেন্টের উপর সাইদুরের চোখ পড়লো। আগামীকাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ায় শেষ দিন। সাইদুর মেয়েটার নাম ছাড়া আর কোন যোগাযোগের ঠিকানা খুঁজে পেল না। 
সাইদুর গত দুই বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় মাস্টার্স শেষ করেছে। সে দুইটি চাকুরী পেয়েছিলো। কিন্তু সে কোনটাই করতে পারেনি। বিবেক তাকে কোনভাবেই সায় দেয়নি। তারপর আর নুতনভাবে চাকুরী খুঁজতে ইচ্ছে করেনি। বাবা নেই। ইজি বাইক চালিয়ে মা আর দুই ভাই বোনের সংসারে হাল ধরেছে। 

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে সে অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়ে বসলো। অনলাইনে বিভিন্ন বই আর রেফারেন্সে পড়ে সে গভীর রাতে অ্যাসাইনমেন্টটা শেষ করলো। সকালে সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যা ডিপার্টমেন্টে গিয়ে হাজির হল। অনেক খুঁজে পেতে সাইদুর অনার্স তৃতীয় বর্ষের ক্লাসরুম খুঁজে বের করলো। তখন ক্লাস চলছিল। স্যারকে অনুরোধ করতেই সে মেয়েটিকে ডেকে দিলো। সাইদুর তার হাতে অ্যাসাইনমেন্ট করা ফোল্ডারটা ধরিয়ে দিলো। 

মেয়েটি ফোল্ডার খুলে অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সাইদুর তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে করিডোর দিয়ে বেরিয়ে এলো। কোনকিছুই এখন আর তাকে নাড়া দিতে পারে না। 

লেখক: সিডনি প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫১
প্রিন্ট করুন printer

তামাকের ভয়াবহতা রোধে আইন সংশোধনের বিকল্প নেই

অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক

তামাকের ভয়াবহতা রোধে আইন সংশোধনের বিকল্প নেই
অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। ফাইল ছবি

তামাক যে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি হুমকি তা নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়—তামাকের ভয়াবহতা বোঝাতে এই একটি তথ্যই বোধহয় যথেষ্ট। এর বাইরে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতি হয় বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি, ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। তামাকের ব্যবহার হ্রাস করার মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যু ও আর্থিক ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বর্তমান করোনা মহামারীর এই সময়ে তামাকের ব্যবহার হ্রাস আরও বেশি জরুরি। কারণ, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক ব্যবহার করোনায় আক্রান্ত ও জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

তাছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে আমাদের। বাংলাদেশই সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল—এফসিটিসি’তে স্বাক্ষর করেছে। এর ওপর ভিত্তি করেই ২০০৫ সালে দেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে আরও শক্তিশালী করা হয়। এর সুফলও পেয়েছি আমরা। ২০০৯ ও ২০১৭ সালে পরিচালিত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) থেকে পার্থক্যগুলো বোঝা যায়।

সেখানে দেখা যায়, ২০০৯ সালের চেয়ে বর্তমানে তামাকের ব্যবহার তুলনামূলক ভাবে ১৮.৫% হ্রাস পেয়েছে (রিলেটিভ রিডাকশন)। ধূমপানের ক্ষেত্রে ২২% তুলনামূলক হ্রাস এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহারে ২৪% কমেছে। অর্থাৎ, এই আট বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ লাখ কমেছে। 

এছাড়াও বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের হার, যেমন: রেস্তোরাঁয় ৩০%, কর্মক্ষেত্রে ১৯%, হাসপাতালে ১১% এবং গণ-পরিবহনে প্রায় ১০% কমেছে। তামাকের ব্যবহার হ্রাসের এই হার আশাব্যঞ্জক হলেও, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি এফসিটিসির সাথে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এখনো কিছু জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে। যার ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বিলম্বিত হচ্ছে।

বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনে একাধিক কক্ষবিশিষ্ট গণপরিবহন-ট্রেন, লঞ্চ এবং চার দেয়ালে আবদ্ধ নয় এমন রেস্তোরাঁয় ধূমপানের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে করোনা মহামারীর এই সময়ে এমন পাবলিক প্লেসগুলোতে পরোক্ষ ধূমপান জনসাধারণকে আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে। আবার বর্তমান আইনে দোকানে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়নি। এই সুযোগে দোকানগুলোতে বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেট সাজিয়ে রেখে তা বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের কৌশলী বিজ্ঞাপন শিশু-কিশোরদের তামাকের প্রতি আসক্ত করে তুলছে।

বর্তমান আইনের আরেকটি বড়ো দুর্বলতা হলো এটায় বিড়ি-সিগারেটের সিঙ্গেল স্টিক বা খুচরা শলাকা এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক দ্রব্য খোলা বিক্রি নিষিদ্ধ নয়। এমনিতেই বাংলাদেশে তামাকদ্রব্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশের চেয়ে সস্তা। এর ওপর খুচরা বিক্রি হওয়ার ফলে তামাকদ্রব্যের দাম বাড়ানো হলেও তা আদতে শিশু-কিশোর ও নিম্ন আয়ের লোকজনের কাছে সহজলভ্যই থেকে যাচ্ছে। এতে করে তামাকদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে ব্যবহার কমানোর যে বৈশ্বিক অনুশীলন রয়েছে তা এদেশে ব্যর্থ হচ্ছে। 

অন্যদিকে, এই আইনে কিশোর ও তরুণদের জন্য নতুন হুমকি ই-সিগারেটের মতো এমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কিছু বলা নেই। এই সুযোগে এসব আসক্তিকর পণ্য সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যার সহজ শিকার হচ্ছে উঠতি বয়সীরা। তাছাড়া আইন অনুসারে তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি নিষিদ্ধ না হওয়ায় তারা লোকদেখানো সমাজসেবার মাধ্যমে সহজেই নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ পায়। সেই সাথে সমাজসেবার আড়ালে নিজেদের ‘বিষ-বাণিজ্য’কে জোরদার করে।

বিশ্বজুড়ে তামাকদ্রব্যের স্বাস্থ্য ক্ষতির কথা তুলে ধরার জন্য মোড়কের ওপর সতর্কতামূলক চিত্র ও লেখা মুদ্রণ করা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তামাক দ্রব্যের মোড়কের ৯০ শতাংশ জুড়ে এসব সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ছাপানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মোড়কের ৫০ শতাংশ জুড়ে এমন সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ করা হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন! উপরন্তু দেশে তামাকদ্রব্যের মোড়কের আকার সুনির্দিষ্ট নয়। ফলে বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক দ্রব্যের ক্ষুদ্র আকারের মোড়কে সচিত্র সতর্কবার্তা সেভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। সেজন্য মোড়কের আকার নির্ধারণ এবং সতর্কতামূলক চিত্রের আকার মোড়কের ৯০ শতাংশ জুড়ে মুদ্রণের বিধান করা অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যমান তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটিকে সংশোধন করে এসব দুর্বলতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এটা করা গেলে নিঃসন্দেহে দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে এবং তামাকের ব্যবহার কমবে। বিশেষত নতুন করে কেউ যাতে তামাকে কেউ আসক্ত না হয়, সেদিকে জোর দিতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন করে তামাকে কেউ আসক্ত না হওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছর ১৮ লক্ষ তামাকসেবীকে তামাক গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে পারলে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করা সম্ভব।

লেখক: ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও যুগ্ম-মহাসচিব, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৪৬
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:০৭
প্রিন্ট করুন printer

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক খাতের ব্যাপক বিস্তৃতির উপায়

জামিল আফজাল

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক খাতের ব্যাপক বিস্তৃতির উপায়
ফাইল ছবি

ফ্রি ডিজিটাল বিটুবি প্ল্যাটফর্ম সেরাই সরবরাহকারী ও উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে সহযোগিতা করছে, তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করে তুলছে।

গ্রীক পুরাণে অ্যাটলাসকে বলা হয়েছিল সমস্ত পৃথিবীর ভার একাই বহন করতে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে অনেকটা গ্রীক পুরাণের সেই কাল্পনিক চরিত্র অ্যাটলাসের ভূমিকাই যেন পালন করছে তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের রপ্তানি খাতের শতকরা ৮০ ভাগ জুড়ে আছে এই শিল্পটি এবং আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারের ৬% শেয়ার দখলে আছে তার। তবে কাল্পনিক চরিত্র অ্যাটলাস সম্প্রতি প্রচণ্ড এক নাড়া খেয়েছে মহামারি কোভিড-১৯ এর ধাক্কায়। সেই ধাক্কা লেগেছে পোশাক খাতের বাজারেও। তাই এই শিল্প বাঁচানোর উপায়ই এখন ভাবনার বিষয়। আর সম্ভাবনাময় একমাত্র হাতিয়ার এখন প্রযুক্তি। পোশাক খাতের আধুনিকায়ন শুধু যে আন্তর্জাতিক লেনদেনেই সাহায্য করবে তা নয়, বরং এতে করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর সাথে যুক্ত হওয়ার এক অপার সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে যাবে, যেটা নানান কারণে এর আগে হওয়া উচিত থাকলেও বাস্তবে তা আর হয়ে উঠে নি। সেই সাথে বাড়বে আন্তর্জাতিক বাজারের বড় জায়গা দখলে নেওয়ার সম্ভাবনাও।

কোভিড-১৯ প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে আগে গতানুগতিক পদ্ধতির উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ছিল, তারাই এখন প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে দ্রুততার সাথে। অনলাইনে শক্তিশালী উপস্থিতি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা একইসাথে ব্যবসায়ে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। গ্রাহকরা কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি ঝামেলামুক্ত ও সহজ পন্থা প্রত্যাশা করে।  

প্রযুক্তি কীভাবে পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে পারে?  

এইসএসবিসি-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেরাই বাংলাশের পোশাক খাতের অগ্রগতিতে সহযোগী হতে পারে। প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতা ও ব্র্যান্ডের সাথে স্থানীয় সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের নতুন সম্পর্ক তৈরি, পণ্য প্রদর্শনী এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করছে। এই প্ল্যাটফর্মটিতে বিনা খরচে যুক্ত হওয়া যাবে। বাংলাদেশের এনভয় টেক্সটাইল, ডিবিএল গ্রুপ ও ভিয়েলাটেক্স-এর মতো স্বনামধন্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের মোট ২৫০০-এরও বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ও ক্রেতা ইতোমধ্যে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে।

সেরাই প্ল্যাটফর্মে উৎপাদকরা খুব সহজেই নিজেদের অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে এবং ছবি ও ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করতে পারবে। অনলাইনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানো কিংবা কাপড়ের থ্রিডি ছবি প্রদর্শনের মতো প্রযুক্তি সুবিধা নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রাপ্তির মতো অর্জনগুলোও তুলে ধরতে পারবে। তাছাড়া, এখানে প্রোফাইল পাবলিক করে দেওয়ারও সুযোগ আছে, পাবলিক করলে কারও সেরাই অ্যাকাউন্ট না থাকলেও প্রোফাইলটি দেখতে পারবে। সেরাই-এ প্রাসঙ্গিক পণ্য ও পণ্যের উপাদানের ধরনের মতো কী ওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রোফাইল ট্যাগ করা যা। ট্যাগ করলে যেসব আন্তর্জাতিক ক্রেতা বা ব্র্যান্ড এমন পণ্য খুজছে তারা সহজেই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি খুঁজে পাবে। 

এসব ফিচার ব্যবহার করার মাধ্যমে সেরাই-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সরবরাহকারী ও উৎপাদকদের একটি শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রচারে সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে মূলত বাজারজাতকরণ ও কার্যক্রম পরিচালনার খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে, তবে বাড়ছে দক্ষতা ও মুনাফা। এখান থেকে সাশ্রয়কৃত অর্থ প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন উদ্ভাবন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করতে পারে। সেরাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা সংবাদ ও নিবন্ধ আকারে তুলে ধরে, যাতে করে তার সদস্যরা আন্তর্জাতিক তৈরি পোশাক খাত সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকতে পারে।

বাংলাদেশের অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানই এখন ডিজিটাল হওয়ার প্রতি আগ্রহী হলেও তার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সেরাই বাংলাদেশের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ফ্রি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি সেবা দিচ্ছে। সেরাই-এর এই সেবা নিতে আগ্রহী যেকোন টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার এখানে সাইন আপ করতে পারেন অথবা নিচের কিউআর কোডটি স্ক্যান করে নিতে পারেন। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:১৯
প্রিন্ট করুন printer

রক্ত ঝরা ঘামে অর্জিত অর্থের নাম প্রবাসী রেমিট্যান্স

মঈন উদ্দিন সরকার সুমন

রক্ত ঝরা ঘামে অর্জিত অর্থের নাম প্রবাসী রেমিট্যান্স

করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবস্থা যুদ্ধ পরবর্তী একটি বিধ্বস্ত দেশের অবস্থার চেয়ে কম নয়। এই মহামারির কারণে বিশ্বের অনেক দেশের বর্তমানে আর্থিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। এই মহামারির যুদ্ধে আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের দিকে। 

তথ্যমতে, ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ৩ বিলয়ন বা ৪ হাজার ১০৩ কোটি ডলার। গত বছরে ৪ মাসের ব্যবধানে ৮ বার নতুন মাইলফলক অতিক্রম করলো রিজার্ভ। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে এই রিজার্ভ দিয়ে ১০ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। মূলত রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। এই অর্জন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন ঘটেছে, তেমনি তাঁদের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবার মাথা উচু করে বেঁচে আছে। 
অতচ এখনো অবসান হয়নি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দুর্ভোগ ও বঞ্চনার।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের অধিকার সংরক্ষণসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  এই নির্দেশ কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে পালন করলেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দুর্ভোগ ও বঞ্চনা কিছুটা হলেও অবসান হবে। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে গর্বিত এই সংকটে অতি ক্ষুদ্র একজন হলেও কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছি। 

লেখক: সংবাদ কর্মী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর