Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০০

আসিতেছে ভ্যালেন্টাইন ডে *

ইকবাল খন্দকার

আসিতেছে ভ্যালেন্টাইন ডে *
আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ
‘আমার প্রেমিকা একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম করে। আর আমি সেটা জেনেই তার প্রেমে ফিদা, কারণ সে জবরদস্ত সুন্দরী। সে আমাকে একটা শিডিউল শিট দিয়েছে। আমি সেই অনুযায়ী তাকে ফোন করি, তার সঙ্গে ডেটিং করি’

 

একটা জরুরি দরকারে আমার এক ছোটভাইকে ফোন করলাম। ছোটভাই ফোন ধরল বটে, তবে তার গলা শুনে মনে হলো খুব পেরেশানির মধ্যে আছে। আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলাম, ব্যস্ত নাকি? ছোটভাই বলল, জি ভাই, একটু ব্যস্তই। স্পট দেখতে এসেছি তো! আমি বললাম, স্পট দেখতে গিয়েছিস, তার মানে নাটক-সিনেমা বানানোর প্রস্তুতি। কিন্তু তুই এই কাজ শুরু করলি কবে থেকে? কিছু জানাসনি তো! ছোটভাই বলল, না ভাই, আপনি যা মনে করছেন, তা না। স্পট মানে কিন্তু শুটিংস্পট না। স্পট মানে হচ্ছে ডেটিংস্পট। আসন্ন ভালোবাসা দিবসে ডেটিং করব তো! আমার প্রেমিকার আবার সব জায়গা পছন্দ না। সে যেখানে সেখানে ডেটিং করতে নারাজ। তাই আগেভাগে খুঁজতে এলাম। দোয়া করবেন যেন পছন্দসই জায়গা খুঁজে পাই। নইলে আবার সে ডেটিং ক্যান্সেল করে দেবে। আমার এক বড়ভাই মাত্রাছাড়া কঞ্জুস। একটা টাকা খরচ করার আগে তিনি একটা ঘণ্টা চিন্তা করেন। চিন্তা তো না, রীতিমতো দুশ্চিন্তা। এই বড়ভাই হঠাৎ করেই প্রেমে পড়লেন। দুদিন আগে আমি তাকে রাস্তায় পেয়ে বললামÑ প্রেম করা তো আজকাল অনেক খরচের ব্যাপার। কিন্তু আপনি কঞ্জুস মানুষ। কীভাবে কী করেন তাহলে? বড়ভাই বললেন, আরে ভাগ্য ভালো হলে সবই সম্ভব। আমি যার সঙ্গে প্রেম করি, তাকে নিয়ে যেখানেই ডেটিং করতে যাই না কেন, খাবারের দাম বলিস আর জিনিসপত্রের দামই বলিস, সবই প্রায় হাফ রেট। কেন হাফ রেট? কারণ, দোকানদাররা সবাই তাকে চেনে। আমি বললাম, তার মানে আপনি স্টারের সঙ্গে প্রেম করেন। আসলেই আপনার ভাগ্য ভালো। বড়ভাই বললেন, স্টারের সঙ্গে প্রেম করছি, এটা আসলে ঠিক না। আর তাকে যে সব দোকানদার চেনে, এটা অন্য কারণে চেনে। আসলে সে বিভিন্ন সময়ে আমার মতো একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম করত তো! তাদের সঙ্গে ডেটিং করে করে ডেটিংস্পটের দোকানদারদের সঙ্গে এমন পরিচিত হয়ে গেছে যে, এখন তাকে দেখলেই দোকানদাররা প্রায় অর্ধেক ডিসকাউন্ট দেয়। রেগুলার কাস্টমার হলে যা হয়। বিষয়টা আমার জন্য খুবই সাশ্রয়ী। আমার এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আমার খুবই সুসম্পর্ক। আমি জানি অনেক দিন ধরেই সে একটা প্রেম করছে। যেহেতু সামনে ভালোবাসা দিবস, তাই জিজ্ঞেস করলাম এই দিবসকে ঘিরে পরিকল্পনা কী। প্রতিবেশী বলল, আমার তেমন পরিকল্পনা নেই ভাই। তবে আমার প্রেমিকার বিস্তর পরিকল্পনা। আমি বললাম, বাহ, খুবই ভালো। নিশ্চয়ই আপনার প্রেমিকা বেশ গোছানো। তাই ভালোবাসা দিবসকে ঘিরেও তার পরিকল্পনা আছে। প্রতিবেশী বলল, ভাইরে, এরকম কিছু না। আমার মতো তার আরও চার-পাঁচজন প্রেমিক আছে। কিন্তু ভালোবাসা দিবসে কার সঙ্গে ডেটিং করবে, এ বিষয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে দেখে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটা লটারির আয়োজন করবে। লটারিতে যে প্রেমিকের নাম উঠবে, তার সঙ্গেই ডেটিংয়ে যাবে। তো এই লটারিরই প্রস্তুতি চলছে। দোয়া করবেন যেন লটারিতে আমার নামটা ওঠে। আমার এক বন্ধু বলল, আজকাল মেয়েরা একই সঙ্গে একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম চালায়। এ বিষয়টা আমাকে খুবই কষ্ট দেয়। আমি বললাম, বিষয়টা খুবই খারাপ। কিন্তু তোকে কষ্ট দেওয়ার কারণ কী? তুই এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছিস নাকি? বন্ধু বলল, পড়েছি মানে, সাংঘাতিক পড়া পড়েছি। ছোটবেলায় পড়ার টেবিলের সামনে যেভাবে পড়ার রুটিন টানিয়ে রাখতাম, সেভাবে এখন টানিয়ে রেখেছি ডেটিং শিডিউল। আমার প্রেমিকা একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম করে। আর আমি সেটা জেনেই তার প্রেমে ফিদা, কারণ সে জবরদস্ত সুন্দরী।  সে আমাকে একটা শিডিউল শিট দিয়েছে। আমি সেই অনুযায়ী তাকে ফোন করি, তার সঙ্গে ডেটিং করি। আমার পরিচিত এক সুন্দরীকে জিজ্ঞেস করলাম, আসছে ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে পরিকল্পনা কী? সুন্দরী বলল, একটা সম্মেলন করব। আমার সাবেক ও বর্তমান প্রেমিকগণের সম্মেলন। এ সম্মেলনে যোগদান করার জন্য একটাই শর্ত, হাতে দামি গিফট থাকতে হবে। ঠিক আছে না পরিকল্পনা? আমি বললাম, আপনার প্রেমিকের সংখ্যা কত হবে? সুন্দরী আমার প্রশ্নের জবাব দিল একটু অন্যভাবে, গিফট আইটেম রাখার জন্য আলাদা অডিটরিয়াম ভাড়া নেওয়া আছে।

 

* রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে ঠাডা (বজ্র) পড়া সিংগেলদের জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে-নাইট বলে কিছু নেই। সবই গুজব। ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে লম্বা একটা ঘুম দেন।


আপনার মন্তব্য