প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৪

উত্তরে কম দক্ষিণে বেশি এডিস

জয়শ্রী ভাদুড়ী

উত্তরে কম দক্ষিণে বেশি এডিস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৯ শতাংশ এলাকায় এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৮ শতাংশ এলাকায় এডিস মশার লার্ভা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিফতরের সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে। এর আগে মার্চে পরিচালিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রি-মনসুন জরিপেও দক্ষিণে এডিস মশার উপস্থিতি বেশি ছিল।

মশার ঘনত্বের মাত্রা পরিমাপের জন্য ১৮ থেকে ২৭ জুলাই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডের ১০০টি এলাকায় জরিপ চালায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান ও বনানী এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ২৫০-এর মতো পাওয়া গেছে। উত্তর সিটির মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। দক্ষিণ সিটির স্বামীবাগ এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ৯০ মাত্রায় পাওয়া  গেছে। সবুজবাগ এলাকায় ৮০ মাত্রায় লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

জরিপের সঙ্গে জড়িত জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি  প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান বলেন, লার্ভার মাত্রা ২০-এর বেশি হলে সেটিই ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের মাত্রা ২০-এর ওপরে আছে। যা ডেঙ্গু বিস্তারে সহায়ক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি করপোরেশনগুলোকে এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংস করতে হবে।

জরিপে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে পরিত্যক্ত টায়ারে। পরিত্যক্ত টায়ারে শতকরা ২২ দশমিক ৯ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানিতে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, ড্রামের পানিতে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, পানির ট্যাংক ও প্লাস্টিক বাকেটে ৪.৮৪ শতাংশ, পেইন্ট পটে (টিন/প্লাস্টিক) ৩.৫৫ শতাংশ, ফুলের টব ও মাটির পাত্রে ৩.৮৭ শতাংশ, প্লাস্টিকের বদনা/মগে ২.৯০ শতাংশ মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ শতাংশ এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১ শতাংশ এলাকায় এডিস মশার লার্ভা ছিল।

ঢাকা উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা : ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরা এলাকা, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতলী, মিরপুর কলোনি ও দারুসসালাম এলাকা, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাসানটেক, মাটিকাটা, মানিকদী ও বারেনটেক, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুলশান ও বনানী, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও বি জোন, পূর্ব হাজীপাড়া ও চৌধুরীপাড়া, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও কুনিপাড়া, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের লালমাটিয়া, আসাদগেট, খিলজী রোড, বাবর রোড, ইকবাল রোড, আওরঙ্গজেব রোড ও পিসি কালচার এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া পাওয়া গেছে এবং এসব এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা : ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এ ও সি জোনের খিলগাঁও কলোনি এলাকা, মায়াকানন, সবুজবাগ, উত্তর মুগদাপাড়া, আহম্মেদবাগ, কদমতলা ও বাসাবো, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মালিবাগ, বকশী বাগ, গুলবাগ, শান্তিবাগ ও ইন্দ্রপুরী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চামেলীবাগ ও আমিনবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, সিঅ্যান্ডবি মাঠ ও শান্তিনগর বাজার এলাকা, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কে এম দাস লেন, অভয়দাস  লেন, টয়েনবি সার্কুলার রোড, জয়কালী মন্দির  রোড, ভগবতী ব্যানার্জি রোড, ফোল্ডার স্ট্রিট, হাটখোলা রোড ও আর কে মিশন রোড, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দয়াগঞ্জ রোড, দয়াগঞ্জ হাটলেন, দয়াগঞ্জ জেলেপাড়া, নারিন্দা লেন, শরৎগুপ্ত  রোড, বসু বাজার লেন ও মুনির হোসেন শাহ  লেন, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডিস্ট্রিলারি রোড, দীননাথ সেন রোড, ক্যাশব ব্যানার্জি রোড, শশীভূষণ চ্যাটার্জি লেন, রজনী চৌধুরী রোড, সাবেক সরাফৎগঞ্জ লেন ও সত্যেন্দ্র কুমার দাস  রোড, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিলব্যারাক অ্যান্ড পুলিশ লাইন, অক্ষয় দাস লেন, শাঁখারীনগর  লেন, হরিচরণ রায় রোড, আলমগঞ্জ রোড, ঢালকানগর লেন ও সতীশ সরকার রোড, ৪৮ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, বয়স্ক মশা ও এডিস মশার লার্ভার সংখ্যা অনেক  বেড়েছে। তাই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এ ছাড়া কোনো এলাকায় মশার লার্ভা কম বা না থাকলেও ডেঙ্গু রোগী থাকবে না তা নয়। মানুষ একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচল করে। সেহেতু যে এলাকাগুলোতে মশার ঘনত্ব কম, সে এলাকায়ও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।  সে কারণে ডেঙ্গুর সোর্স মশা নিধনে জোর  দিতে হবে।


আপনার মন্তব্য