Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০১৯ ২১:৩৪

নওগাঁয় অন্যরকম পাঠাগার...

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁয় অন্যরকম পাঠাগার...

ঝরে পড়া রোধ করতে বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের সেই উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো যে যার অবস্থান থেকে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা বিস্তারে ঠিক তেমনই ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমান। সম্প্রতি উপজেলার মশিদপুর গ্রামে ‘মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি পাঠাগার চালু করেছেন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত প্রত্যন্ত এ গ্রাম। ‘শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো’- স্লোগান নিয়ে এ গ্রামে সচেতন ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল ‘মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি সেবামূলক অরাজনৈতিক সংগঠন। শিক্ষা বিস্তারে ২০০১ সালে এ সংগঠনটি গড়ে উঠলেও অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে উদ্যোগ নিয়ে এ প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই সংগঠনের নামে নতুন একটি পাঠাগার চালু করেছেন। উদ্বোধনী দিনে বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, আমার বন্ধু রাশেদ, সূর্যদীঘল বাড়ি, মহানবী (সা.) এর শ্রেষ্ঠ বাণী, নাগরিকদের জানা ভালো, সোনামণিদের পরিচর্চা, ছোটগল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক বইসহ বিভিন্ন লেখকের প্রায় ৮০টি বই দিয়ে এ পাঠাগারটি চালু করা হয়। আর এ পাঠাগার থেকে অত্র এলাকার মশিদপুর, হোসেনপুর, চুয়াপুর, আইওরপাড়া, কবুলপুর, চৌবাড়িয়া, চাকদহ, দুর্গাপুর ও জোনাকীসহ প্রায় ১২-১৫টি গ্রামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষিত যুবকরা উপকৃত হবেন। অবসর সময়ে তারা এ পাঠাগারে এসে জ্ঞানচর্চা করবেন। এমন মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু এ গ্রামে নয়-শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এমন পাঠাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতনরা। মশিদপুর ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা বলেন, পাঠাগার বা গ্রন্থাগার হচ্ছে বইয়ের ভা-ার। যেখানে প্রচুর বই সংরক্ষণে থাকে। বই পড়ার আগ্রহ থাকলেও আমাদের পক্ষে বই কিনে পড়া সম্ভব ছিল না। ইতিপূর্বে আমাদের এলাকায় কোনো পাঠাগার ছিল না। পাঠাগার হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। যেখানে অবসর সময়ে আমরা পাঠাগারে বসে বিভিন্ন বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারব।


আপনার মন্তব্য