শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৩

জমজমাট চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের হাট

এ হাটের গুড়ের মান বেশ ভালো, তুলনামূলকভাবে দামও কম। এ কারণে দূরদূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা হাটে আসেন গুড় কিনতে

জামান আখতার

জমজমাট চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের হাট

সারা দেশের মধ্যে বড় খেজুর গুড়ের হাট বসে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে। গুড়ের মৌসুমে দূর-দূরান্তের গুড় ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গায়। জেলার ঐহিত্যবাহী এ গুড় ব্যাপারীদের মাধ্যমে চলে যায় সারা দেশে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও যায় চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়। প্রতি বছর শীত মৌসুমে গাছিরা খেজুর গাছের রস থেকে গুড় তৈরি করে। এ সময় সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার হাট বসে এখানে। প্রতি হাটে অন্তত দুই কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয়। বর্তমানে জমজমাট চুয়াডাঙ্গার গুড়ের হাট।

চুয়াডাঙ্গার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় রয়েছে আড়াই লক্ষাধিক খেজুর গাছ। এ থেকে আড়াই হাজার মেট্রিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কৃষি বিভাগের। শীত মৌসুমে গাছিরা এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। গাছিদের উৎপাদিত সুস্বাদু খেজুরের গুড় বিক্রির জন্য নেওয়া হয় সরোজগঞ্জ হাটে। সরজমিন সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটে গিয়ে দেখা যায় হাজার হাজার গুড়ের ভাঁড়। সারি সারি সাজানো গুড়ের ভাঁড় দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। পাশে রয়েছে বেশ কিছু ট্রাক। ব্যাপারীরা এসব ট্রাকে চুয়াডাঙ্গার গুড় নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর ১০-১২ কেজি ওজনের এক ভাঁড় গুড় বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার এখানে গুড়ের হাট বসে। প্রতি হাটে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক গুড় বেচাকেনা হয় হাটে। এ হাটের গুড়ের মান বেশ ভালো, তুলনামূলকভাবে দামও কম। এ কারণে দূরদূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা এ হাটে আসেন গুড় কিনতে। ঢাকা সাভারের গুড় ব্যবসায়ী পিয়াস সাহা জানান, তার পূর্বপুরুষরা চুয়াডাঙ্গার গুড়ের হাটে ব্যবসা করতেন। পূর্বপুরুষদের পথ ধরে তিনিও কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুমে সরোজগঞ্জের গুড়ের হাটে আসছেন। চুয়াডাঙ্গায় কম দামে ভালোমানের গুড় পাওয়া যায়, এ কারণেই তিনি চুয়াডাঙ্গা গুড় নিয়ে ব্যবসা করছেন। একই এলাকার অপর ব্যাপারী শংকর পাল বলেন, বছরের তিন মাস তিনি সরোজগঞ্জে গুড়ের ব্যবসা করতে আসেন। এখান থেকে গুড় কিনে দেশের বড় বড় শহরে তিনি গুড় বিক্রি করেন। দেশের প্রায় সবখানেই চুয়াডাঙ্গার গুড়ের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইদানীং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় খেজুরের গুড়ে চিনি মেশাচ্ছেন। এতে করে চুয়াডাঙ্গার ঐহিত্যবাহী গুড়ের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ হাটের ইজারাদার জাহিদ হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গার খেজুরগুড়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি খুবই সুস্বাদু। এ হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চুয়াডাঙ্গার চাষীরা মূলত জমির আইলে খেজুরের গাছ লাগিয়ে থাকেন। অব্যবহৃত জমিতে অনেকটা অযতেœ বেড়ে ওঠা খেজুরের গাছ থেকে এক-একজন চাষী মৌসুমে লাখ লাখ টাকা আয় করে থাকেন।


আপনার মন্তব্য