শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৪

সেই হ্যামিল্টনেই তার পরীক্ষা

মেজবাহ্-উল-হক

সেই হ্যামিল্টনেই তার পরীক্ষা
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। টেস্টে ছিলেন সহঅধিনায়ক। কিন্তু সাকিব আল হাসানের ইনজুরির কারণে প্রথম টেস্টে তিনিই টাইগারদের দলনেতা। মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলছে তারই পছন্দের ভেন্যু হ্যামিল্টনে।

‘হ্যামিল্টন’ নামটাই হয়তো টাইগার দলপতির কাছে রোমাঞ্চকর! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহর প্রথম সেঞ্চুরি এই ভেন্যুতে। ২০১০ সালে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি খেলেছিলেন ১১৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। টেস্টে তার প্রথম সেঞ্চুরি সেটি। ওই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছিল টাইগাররা।

এই হ্যামিল্টনে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি আছে মাহমুদুল্লাহর। ১২৮ রানের হার না মানা ইনিংস যেন পুরো বিশ্বকে মাত করে দিয়েছিলেন। তার আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তারপর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার অনন্য গৌরব অর্জন করেন মাহমুদুল্লাহ। তিনটি বিশাল ছক্কা ও বারোটি বাউন্ডারিতে অসাধারণ ইনিংসটি খেলেছেন বাংলাদেশের এই ক্ল্যাসিক ব্যাটসম্যান। ওই ইনিংস দিয়েই ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মাহমুদুল্লাহ।

মজার বিষয় হচ্ছে, মাহমুদুল্লাহ যে ওয়ানডে ও টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন সেই দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলও। দুই ম্যাচেই জিতেছিল ব্লাক ক্যাপসরা, আর দুই ম্যাচেই সেরা হয়েছেন গাপটিল। কিউই তারকা এবারও ফর্মের তুঙ্গে। তিন ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজে তার দুই সেঞ্চুরি। টেস্টেও রান করার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। হয়তো সেই হ্যামিল্টনেই আবারও মাহমুদুল্লাহ বনাম গাপটিল দ্বৈরথ দেখা যাবে!

তবে এই টেস্টে অবশ্য নিউজিল্যান্ড যতটা উজ্জীবিত, ঠিক ততটাই যেন ম্লান বাংলাদেশ! দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান সাকিব ও মুশফিক নেই। আগের সফরে এই দুই তারকাই ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রাণ। সব শেষ সফরে সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরি এবং  সেঞ্চুরি ছিল মুশফিকের। হ্যামিল্টনের খেলা সব শেষ টেস্টেও সেঞ্চুরি ছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। তাই সাকিবকে না পাওয়াটা বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বড় ধাক্কা। আর মুশফিকের না থাকাটা যেন মাহমুদুল্লাহর কাছে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’! ১৩ বছর পর বাংলাদেশ দল প্রথম একাদশ সাজিয়েছে সাকিব-মুশফিক দুজনকে একসঙ্গে মাঠের বাইরে রেখে।

দলের প্রধান দুই তারকা না থাকায় সুখ স্মৃতির হ্যামিল্টনে ফুরফুরে মেজাজে খেলতে নামতে পারছেন না টাইগার দলপতি। একাদশে আস্থা রাখার মতো একমাত্র ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। কিন্তু ড্যাসিং ওপেনারও ওয়ানডে সিরিজে ভালো করতে পারেননি। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে করেছেন মাত্র ১০ রান। তবে আশার কথা হচ্ছে, ইনজুরি থেকে ফিরেছেন মোহাম্মদ মিথুন। প্রথম দুই ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি করার পর চোটের কারণে শেষ ম্যাচটি তিনি খেলতে পারেননি।

ব্যাকফুটে থেকে খেলতে নেমেও আত্মবিশ্বাসী মাহমুদুল্লাহ, ‘আমরা ইতিবাচক এবং আক্রমণাত্মকভাবেই ম্যাচটি খেলব। বোল্ট কিংবা সাউদিকে কিভাবে খেলতে হয় তা আমরা জানি। তা ছাড়া তাদের দলে রয়েছেন উইলিয়ামসনের মতো বিশ্ব মানের ব্যাটসম্যান। টেস্টে দ্বিতীয় সেরা দল নিউজিল্যান্ড। তবে আমরা সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করবো।’

হ্যামিল্টনে বাংলাদেশ এর আগে দুইটি টেস্ট খেলেছে। দুই ম্যাচেই হেরেছে। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় কিংবা ড্র করার কোনো রেকর্ড নেই টাইগারদের। এর আগে ৭ ম্যাচ খেলেছে, প্রতিবারই বড় ব্যবধানে হার।

২০০১ সালে প্রথম ম্যাচে হার ইনিংস ও ৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে। তবে ২০১০ সালে দ্বিতীয় ম্যাচে ১২১ রানে হারলেও দারুণ ব্যাটিং করেছে টাইগাররা। ওই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া প্রথম ইনিংসে ৫৫৩ রানের পাহাড় সামনে রেখে বাংলাদেশও করেছিল ৪০৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশ ২৮২ রান করেছিল। সে কারণে বাংলাদেশ হালকাভাবে দেখছেন না কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। তিনি বলেন, ‘হ্যামিল্টনে সব শেষ ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল বাংলাদেশ। তাই আমদের সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে।’ হ্যামিল্টনের স্যাডন পার্কে সব শেষ তিন টেস্টের মধ্যে দুই ম্যাচেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড।

এই মাঠে প্রথমে ব্যাট করলে চার শতাধিক রান অনায়াসেই হয়! কিন্তু বাংলাদেশ দলে ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই তো যত ভয়! তামিমের সঙ্গে ওপেন করবেন অনভিজ্ঞ সাদমান ইসলাম। তিনে রয়েছেন মুমিনুল হক। চার নম্বরে খেলবেন মোহাম্মদ মিথুন। পাঁচে মাহমুদুল্লাহ। ছয় ও সাত নম্বরে লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে থাকবে তিন পেসার- মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে আবু জায়েদ রাহী ও খালিদ আহমেদ। স্পিনার হিসেবে দেখা যেতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে।

তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে মাহমুদুল্লাহর দিকেই! দেখা যাক, অধিনায়কত্বে চাপ সামলিয়ে সুখ স্মৃতির হ্যামিল্টনে নতুন কোনো কীর্তি গড়তে পারেন কিনা!


আপনার মন্তব্য