বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

মরক্কোর লাল বিপ্লব

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। বেশ শক্তিশালী। রোনালদোরা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজিত হলেও নিজেদের শক্তিমত্তা বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন অন্য ম্যাচগুলোতে। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে পর্তুগিজরা ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে।

তিনি মুনিয়া। বয়সটা বললেন না। আন্দাজ, ৪০ হবে। কাজ করেন মরক্কোর রয়্যাল এয়ারলাইন্সে। স্পেনের বিপক্ষে নিজ দলের জয় দেখে ফিরছিলেন দেশে। মরক্কো থেকে কেবলই ম্যাচ দেখতে আসা? মুনিয়া আকর্ণ বিস্তৃত হাসিতে মুখ রাঙিয়ে বললেন, হ্যাঁ। মুনিয়ার মতো আরও হাজার হাজার মরক্কোর মানুষ মঙ্গলবার এসেছিল কাতারের রাজধানী দোহায়। স্পেনের বিপক্ষে নিজ দলকে সমর্থন দিতে। মনের গভীরে তাদের আশা ছিল, স্পেনকে হারিয়ে মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। কিন্তু এই আশা এতোটাই ক্ষীণ ছিল, পরের ম্যাচের টিকিট নিয়ে তারা ভাবেইনি। এ কারণেই মরক্কো থেকে সাড়ে সাত ঘণ্টার ফ্লাইট ধরে দোহায় এসে ম্যাচটা শেষ করেই তারা আবার ছুটে যায় নিজ দেশে। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেলে আবারও আসবেন এসব সমর্থক। না পেলেও আসবেন অনেকে। মরক্কোর লাল রঙা জার্সি গায়ে, লাল পতাকা জড়িয়ে দাপিয়ে বেড়াবেন ফ্যান ফেস্টিভেল, কোরনিশ আর স্টেডিয়াম পাড়ায়।

মরক্কোর রাজধানী থেকে দোহার প্লেন ভাড়া সাধারণত ১ হাজার ডলারের উপরে। দিরহামের হিসেবে ১০ হাজারেরও বেশি। তবে মরক্কো নকআউট পর্ব নিশ্চিত করায় এই ভাড়া সরকারের পক্ষ থেকে কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। নিজ দেশের মানুষকে ব্যাপকহারে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে মরক্কোর সরকার। চালু করা হয়েছে বাড়তি পাঁচটি ফ্লাইট। এরপরও দর্শকদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হচ্ছে।

আফ্রিকান ফুটবলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মরক্কো বিশ্বকাপে টিকে আছে। গ্রুপপর্বে তারা হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। ড্র করেছে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। এবার নকআউট পর্বে হারিয়ে দিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। মরক্কোর ফুটবলের এই লাল বিপ্লব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে? বলা কঠিন। সামনে প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। সেই দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, হুয়াও ফেলিক্স আর ব্রুনো ফার্নান্দেজদের মতো তারকা আছে। তবে মরক্কো দলেও কী তারকা কম? মরক্কো থেকে আসা সমর্থক মোহামেদ সাবিরি বললেন, ‘আমাদের দলটা দারুণ। পর্তুগাল দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আছেন। কিন্তু আমাদের দলেও তারকা কম নেই।’ সত্যিই তো! আশরাফ হাকিমি বর্তমান ফুটবলে অনেক বড় তারকা। পিএসজিতে খেলেন লিওনেল মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেদের সঙ্গে। পিএসজির প্রথম একাদশের তারকা ফুটবলার। চেলসিতে খেলছেন হাকিম জিয়েচ। ব্লুজদের জার্সিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তিনি। বায়ার্ন মিউনিখে খেলেন নুসাইর মাজরাউদি। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়াতে খেলছেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বওনো এবং ইউসেফ। মরক্কো দলেও তারকার অভাব নেই।

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে মরক্কো। এর আগে ১৯৭০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলে দলটা। সেবার গ্রুপপর্ব খেলেই বিদায় নেয়। এরপর ১৯৮৬ সালে নকআউট পর্বে গেলেও বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকেই। এটাই ছিল বিশ্বকাপে তাদের সেরা অর্জন। ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে খেললেও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। গত চার বছরে দলটা বদলে গেল অনেকটাই। আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করল।

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। বেশ শক্তিশালী। রোনালদোরা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজিত হলেও নিজেদের শক্তিমত্তা বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন অন্য ম্যাচগুলোতে। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে পর্তুগিজরা ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, এটা মরক্কোর ওরাও জানে। কিন্তু নিজেদের সেরা অর্জনের পর দলটা এখন নির্ভার হয়ে গেছে। হোক না প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। লাল বিপ্লবের ঢেউ সহসাই থামানোর ইচ্ছে নেই মরক্কোর।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর