এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ নিয়মিত খেলছে ১৯৮২ সাল থেকে। ১৯৮৫ ও ২০১৭ সালে দুবার এশিয়া কাপ হকির আয়োজনও করেছে বাংলাদেশ। গত ১১ আসরে নিয়মিত খেললেও এবার খেলার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নিলে টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ মেলে বাংলাদেশের। গতকাল মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে পেনাল্টি কর্নারে আশরাফুলের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল বাংলাদেশ। অবশ্য এগিয়ে থাকাকে কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বর দল মালয়েশিয়ার কাছে হেরে যায় ৪-১ গোলে। আসরে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে এশিয়া কাপের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া। দলটি আবার বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। আরেক দল চাইনিজ তাইপে। বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ২৯ এবং চাইনিজ তাইপের র্যাঙ্কিং ৩৮। দলটির বিপক্ষে দুপুর ১টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ১ সেপ্টেম্বর। এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ১৯৮২ সালে পঞ্চম। ষষ্ঠ হয়েছে পাঁচবার, সপ্তম চারবার এবং অষ্টম একবার।
বিহারের রাজগিরি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টার ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন আশরাফুল। কিন্তু এই লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি মশিউর রহমানের দল। শক্তিশালী মালয়েশিয়া গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। ২৪ মিনিটে সমতা আনে র্যাঙ্কিংয়ের ১২ নম্বর দল। সমতা আনেন আশ্রান হামসানি। ১-১ গোলে শেষ হয় দ্বিতীয় কোয়ার্টার। তৃতীয় কোয়ার্টারে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়াও আক্রমণাত্মক খেলা খেলতে থাকে। ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। মালয়েশিয়াকে এগিয়ে নেন আখিমুল্লাহ। ২-১ গোলে শেষ হয় তৃতীয় কোয়ার্টার। চতুর্থ কোয়ার্টারে মশিউর বাহিনী চেষ্টা করেও গোল পায়নি। উল্টো আরও দুই গোল খেয়ে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায়। অবশ্য মালয়েশিয়ার কাছে হারলেও আগের দুই ম্যাচের চেয়ে ব্যবধান কম। ২০২২ সালের সর্বশেষ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ হেরেছিল ৮-১ গোলে। ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে হেরেছিল ৭-০ গোলে।
এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ১৬ দলের বিশ্বকাপ হকিতে। আগামী বছর যা অনুষ্ঠিত হবে যৌথভাবে নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে। এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন বাদে শীর্ষ পাঁচ দল বিশ্বকাপ হকির বাছাই পর্ব খেলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে।