পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কত তারকার যে সন্ধান মিলেছিল তা হিসাব মেলোনো মুশকিল। এর মধ্যে একটি নাম তো ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে। পেলে, যাকে বিশ্ব চেনে ব্রাজিলের কালো মানিক বলেই। সত্যি বলতে কী, বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তার পেছনে পেলের অবদান ভোলবার নয়। গারিঞ্চা, রিভালদো, দুঙ্গা, দিদি, কাফু, রোনালদো, জিকো, সক্রেটিক, বেবেতো, রোমারিও, রোনাল দিনহো, কাকা, এরা ছিলেন ফুটবলের রত্ন।
ব্রাজিলকে বলা হতো ফুটবল তৈরির কারখানা। অথচ সেই ব্রাজিলের একি হাল! ভালোমানের খেলোয়াড়ই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। নেইমার আলো ছড়ালেও দীর্ঘ সময়ে তো ইনজুরিতে বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বকাপে তারকা বলতে যা বোঝায় সেই মানের খেলোয়াড়ের দেখা মেলেনি ব্রাজিলে। ২০২৬ সালে ব্রাজিলকে বলা হয় বিশ্বকাপের অন্যতম দুর্বল দল। নেইমার থেকেও নেই। ইনজুরিতে মাঠে নামছিলেন না।
তারকাশূন্য ব্রাজিল। অথচ মেসি, এমবাপ্পে যেমন আলো ছড়াচ্ছেন। তেমনি হ্যারিকেইন, আর্লিং হল্যান্ডরা নজর কাড়ছেন। এদের ঘিরে আলোচনা হচ্ছে গোল্ডেন বুট বা গোল্ডেন বল নিয়ে। তা ছাড়া ফুটবলে ব্রাজিলের চিরশত্রু দেশ আর্জেন্টিনা মেসিকে তো বলা হচ্ছে সর্বকালের সেরা। সেখানে ব্রাজিলের কারোর নামগন্ধ নেই। তাহলে কি এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এমন কোনো ফুটবলারের নৈপুণ্য চোখে পড়বে না, যাকে নিয়ে আলোচনা করা যায়। সত্যিই অন্ধকারে ছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। না, মেসি, এমবাপ্পে, হল্যান্ড, হ্যারিকেইনরা শুধু নন। ব্রাজিলেও এমন একজন আছেন যিনি মাঠ কাঁপাচ্ছেন আর ভক্তদের মন জয় করছেন। ভিনিসাস জুনিয়র, যিনি এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার। মেসি, এমবাপ্পে ও হল্যান্ডকে যখন সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তখন ভিনিয়াস ছিলেন আড়ালে। এখন তিনিও চলে এলেন এই কাতারে। এমবাপ্পে হল্যান্ডের মতোই তাঁর গোল সংখ্যা চার। হ্যাটট্রিক ও মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোলদাতার শীর্ষেও থাকতে পারতেন।
মরক্কোর বিপক্ষে ১, হাইতি ১ ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল। যদি ভিএআরে রেফারি ভিনিসাসের গোলটি বাতিল না করতেন তাহলে মেসির পর তাঁরই হতো হ্যাটট্রিক। এ গোল বাতিল নিয়ে বিতর্কও চলছে। ভিনিসাসের খেলা আগের ব্রাজিলিয়ান তারকাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতলেও স্কটল্যান্ডের ম্যাচে ব্রাজিল ছিল ফুটবলে আসল ব্রাজিল। পুরো দলই ছিল ছন্দে। আর ভিনিসাস ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছেন। মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে ব্রাজিলকে নিয়ে কত কথা। ওরা বেশিদূর যাবে না। চলে না। অথচ অনেকের ধারণাই ছিল না, ব্রাজিল এমন এক দল যে কোনো পরিস্থিতিতে রূপ বদল করতে পারে। আর যে দলে ভিনিসাস আছেন। এখন তো তাদের নিয়ে বড় আশা করা যেতেই পারে।