আগের দুই বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও জার্মানরা এবার চেনারূপে খেলছে। এক ম্যাচ হেরেও ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোতে উঠতে তারা প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে। সমর্থকদের প্রত্যাশায় যখন জার্মানিরা এগিয়ে যাবে। তখনই কি না ফাঁস হলো দলের ভিতর দ্বন্দ্বের কথা। এতটা মতবিরোধ কোচ ও কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা বলা বন্ধ। আগুন জ্বলছে জার্মান শিবিরে। জার্মানির এক পত্রিকায় এমন তথ্য ফাঁস হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব নিয়ে দেশটি কত দূর যাবে এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কী এমন হলো, যা জার্মান পত্রিকা তুলে ধরে দলের সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছে। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারানোর পর তো জার্মানদের সবচেয়ে সুখী পরিবার মনে হয়েছে। হেসেখেলে আসরটা শুরু করল।
দ্বন্দ্বটা নাকি জার্মানির বাছাই পর্বে খেলার সময় থেকেই। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান, যাকে জার্মানির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি কোচ বলা হচ্ছে। তার সঙ্গে বাছাই পর্বে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। তা এখন তীব্র রূপ ধারণ করে আগুন জ্বলছে। কোচ যেভাবে দল সাজান তা শিষ্যদের মনঃপুত হচ্ছে না। সিনিয়র খেলোয়াড়দের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না কোচ। কুরাসাওকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর ডিফেন্ডার অ্যান্টেনিও রুডিগার নাকি মাঠে কোচের সামনে তিরস্কার করে বলেছিলেন, এ জয়ে কোনো কৃতিত্ব নেই। জার্মানির চতুর্থ শ্রেণির দলও কুরাসাওকে হারাবে। এমন মন্তব্যে কোচ ভীষণ ক্ষেপেছিলেন। হোটেলে ফিরে তিনি রুডিগারকে যাচ্ছেতাই কথা শোনান।
কোচ জুলিয়ানের আচরণে খেলোয়াড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচের দূরত্ব তৈরি হয়, যার প্রভাব মাঠেও পড়ে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় পায়। ম্যাচ শেষে জার্মান দল যখন মাঠ ছাড়ছিল তখন এক খেলোয়াড় বলে বসেন, যে কোচ এর চেয়ে ভালো আর কি খেলব? পরের ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হারের পর দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় জশুরা কিমিখের সঙ্গে কোচের কথা কাটাকাটি হয়। কোচ তাকে ধমক দিলে কিমিখ কোচকে হিটলার বলেন। এতে কোচ হোটেল ছেড়ে যেতে চান। পরে খেলোয়াড়রাই তাকে থামান। কিন্তু এই থামাতে কি সব দ্বন্দ্বের নিরসন হবে?