শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৪২

মশক নিধনে বরাদ্দ আছে সুফল নেই

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

মশক নিধনে বরাদ্দ আছে সুফল নেই

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরের মশক নিধন কার্যক্রমে চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) ওষুধ ও মালামাল ক্রয় খাতে বরাদ্দ রাখে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে খরচ করে এক কোটি ১০ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যয় করে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যয় করে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। চার অর্থবছরে মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যয় করা হয় ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আছে ১২০ জন স্প্রে ম্যান, উন্নতমানের ১০৯টি ফগার মেশিন ও ৩৫০টি সাধারণ স্প্রে মেশিন।

কিন্তু এত কিছুর পরও নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। ফলে রাত-দিন সমান তালে সহ্য করতে হয় মশার বিরক্তিকর কামড়। কোনো মতেই মুক্তি মিলে না মশার উৎপাত থেকে। অতীতের তুলনায় এখন মশার উৎপাত অনেক বেশি। পক্ষান্তরে মশার বিষাক্ত কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হচ্ছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগে।   

নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক প্রতিবছর ঢাকঢোল পিটিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করে। এর পেছনে কোটি টাকা খরচও করে। কিন্তু এর সুফল অনেকটাই শূন্য। তাছাড়া চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সকালে মশার ওষুধ ছিটানোর কথা বলা হলেও কখনো কাউকে এ কাজে দেখা যায় না। শেরশাহ্ এলাকার বাসিন্দা দিলরুবা বেগম, ‘মশক নিধনে দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায় না, কেবল শুনি। বলা যায়, ফল শূন্য কার্যক্রম চলে মশক নিধন নিয়ে। দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও অনিয়মই এর কারণ  বলে আমরা মনে করি।’ ডিসি রোডের বাসিন্দা নুরুল আজাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বাস করছি। কিন্তু কখনো মশার ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। ফলে মশার যন্ত্রণা নিয়েই বাস করতে হয়।’

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান ছিদ্দিকী বলেন, ‘নগরে মশক নিধন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিদিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু বাসা-বাড়ির আশপাশের নালা নর্দমায় জমে থাকা আবর্জনায় মশা ডিম ছাড়ে। এসব জায়গায় আমরা মশা ধ্বংসকারী ওষুধ ছিটাই। মশার উৎপাদনস্থল নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়। তাছাড়া ওয়ার্ড কার্যালয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ লিটার করে সরবরাহ করা হয়েছে।’ 

জানা যায়, অতীতে প্রতি বছর নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ‘এডাল্টটিসাইট’ নামে পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী ওষুধ ছিটানোর ক্রাশ প্রোগ্রাম করত চসিক। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময়ে নালা-নর্দমায় ‘লাইট ডিজেল এবং লিমব্যাক’ (লাল তেল নামে পরিচিত) নামে মশার ডিম ধ্বংসকারী তেল ছিটানোর ক্রাশ গ্রোগ্রাম গ্রহণ করত। অন্যদিকে, চসিকের উদ্যোগে নালা নর্দমা পরিষ্কার করারও একটি কর্মসূচি থাকত।

কিন্তু এ বছর চসিক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান মেগা প্রকল্পের কারণে নালা-নর্দমা পরিষ্কারের কর্মসূচি বিলম্বে গ্রহণ করে। ফলে নালা-নর্দমা এবং ডোবা সমূহে এখন মশার ডিম ছাড়ার উর্বর জায়গায় পরিণত হয়েছে বলে জানা যায়।

 


আপনার মন্তব্য