শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৪৪

অনলাইনে ফুল-ফসলের উৎসব

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

অনলাইনে ফুল-ফসলের উৎসব

 ফেসবুক। ফেসবুকের একটি গ্রুপের পাতা জুড়ে সাদা টগর, মরিচা জবা, বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস, কাঁটা মুকুট, হাজারী লাউয়ের বীজ, মর্নিং গ্লোরি, অপরাজিতার বর্ণিল ছবি। এই গ্রুপের মাধ্যমে কুমিল্লার ছয় হাজার তরুণ ফুল-ফলের বীজ, কাণ্ড, কলম বিনামূল্যে বিনিময় করেন। ফুল ফসলে তারা সবুজ করে তুলতে চান কুমিল্লা নগরীর ভবনের ছাদ আর বারান্দা। সদস্যদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। গ্রুপের নাম কুমিল্লা গার্ডেনারস সোসাইটি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ডা.  মো. আবু নাঈমের ২০১৬ সালে গ্রুপটি চালু করেন।

ডা. আবু নাইম বলেন, প্রকৃতিপ্রেমীদের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে এই গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। আমরা বিশ্বাস করি সমষ্টিগতভাবে যে কোনো কাজকে সামনে এগিয়ে  নেওয়া সম্ভব। যারা বড় বাগানি তাদের বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুল, ফল এবং ঔষধি উদ্ভিদ রয়েছে। যারা নতুনভাবে বাগান শুরু করবে তাদের একসঙ্গে এতগুলো প্রজাতি সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। গ্রুপের সদস্যরা যার যার কাছে যে প্রজাতির গাছ রয়েছে এগুলো অন্যদের মাঝে শেয়ার করে সমারোহ বাড়ানো যায়। এজন্যই গ্রুপে গিফট পোস্ট চালু আছে। যার কাছে যে প্রজাতির গাছ রয়েছে সেগুলো কতজনকে দিতে পারবে এই নিয়ে পোস্ট করা হয়। এখানে স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে সবাইকে গাছের চারা দিয়ে থাকে। আমরা প্রতি তিন মাস পরপর মেলা করি, যেখানে উদ্ভিদগুলো বিতরণ হয়। তাছাড়া উৎসাহ প্রদানের লক্ষে যারা নতুন বাগান করে তাদের ও সেরা বাগানিদের পুরস্কৃত করি।

এদিকে গ্রুপের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে মডারেটরের দায়িত্বপালন করছেন সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাওহিদা আক্তার, ডা. তাহিয়া শারমিন স্বর্ণা, শারমিন আক্তার, কামরুন নাহার মিমি, সাব্বির বিন আশরাফ। সম্প্রতি কুমিল্লা টাউন হলের কনফারেন্স রুমে  মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় ১৬টি গিট  পোস্টের ৪০ প্রজাতির ফুলের চারা, বীজ ও সবজি বীজ উপস্থিত ১২৫ জন সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রজাতি সোর্ডলিলি, সাদা টগর, মরিচা জবা, বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস, কাঁটা মুকুট, হাজারী লাউয়ের বীজ, মর্নিং  গ্লোরি, অপরাজিতাসহ হরেক রকম প্রজাতি।

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তালেহা চৌধুরী বলেন, মাধ্যমিকের শুরু থেকে আমি বাগান করি। বর্তমানে বাগানে তিনশতের মতো প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। লিলি আমার প্রিয় ফুল।

ডা. তাহিয়া শারমিন স্বর্ণা বলেন, এই গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পরেই আমি বাগান করা শুরু করি, বর্তমানে আমার সংগ্রহে ৭০টি প্রজাতি রয়েছে, রজনীগন্ধা আমার প্রিয়, কারণ সাদা রং আমি ভালোবাসি।

সুযোগ পেলে কানাডা থেকে চেরি ফুলের চারা সংগ্রহ করব। বৃক্ষ জাতীয় ফুল ছাতিম, মহুয়া, হিজল এগুলো জায়গার স্বল্পতায় লাগাতে পারি না। নতুন বাগান করার ক্ষেত্রে আমি বলব আশপাশের সহজলভ্য উদ্ভিদ দিয়ে শুরু করুন, আস্তে আস্তে সংখ্যা বাড়ান।

শারমিন আক্তার বলেন, বাসার ছাদে বাগান করি ২০১৪ সাল থেকে। গ্রুপে অ্যাড হওয়ার পরে ভালোভাবে শুরু করি।

সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলি মুন্সি জানান, বাগান করা আমার শখ, কিন্তু বাগান করতে গিয়ে অনেক বকা শুনতে হয়। বকাটা আমার জন্য উৎসাহ হিসেবে কাজ করে।

কৃষি উন্নয়ন বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আধুনিক কৃষিমনার প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, কুমিল্লা গার্ডেনারস সোসাইটির উদ্যোগটি চমৎকার। পরিবেশের উন্নয়নে তারা ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ বিনামূল্যে তারা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করে থাকে। তারা পরামর্শ চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।

 


আপনার মন্তব্য