শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২২:২৬

অভিযান হলেই নাম বদল

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

অভিযান হলেই নাম বদল

এ বছরের মে মাসে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর ডিবি অফিসের পূর্বদিকে ছিল ‘এইড প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। জুলাইয়ে সেটি আবার চালু হয়েছে। তবে ভিন্ন নামে। একই কর্মচারী ও মালিকানায় চলছে ‘ইউনিল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে।

শুধু এই একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর বদলে যাচ্ছে নাম। চালু হচ্ছে আবারও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। গত সোমবার দুপুরে এইড প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেই ভবনটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ‘ইউনিল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে চালু হয়েছে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয়রা জানান, এইড প্লাসকে জরিমানা করায় বাজারে বদনাম হয়েছে। আর তাই সেই কর্তৃপক্ষের একটি অংশ নাম পাল্টে একই স্থানে খুলে বসেছে একই ধরনের ব্যবসা।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনিয়ম আছে এমন বেশকিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমরা চিহ্নিত করেছি। খুব শিগগিরই রাজশাহীর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামা হবে।

চিকিৎসা খাতে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজশাহীতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা। তবে সংখ্যা বাড়লেও সেবাধর্মী এই প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসাসেবার মান ও টেস্টগুলোর রিপোর্টের যথার্থতা নিয়ে আছে প্রশ্ন। আর বেসরকারি চিকিৎসা খাতের প্রকাশ্য এই বহুমাত্রিক অনিয়ম দেখেও নিশ্চুপ আছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। আর এর জন্য তারা দায়ী করছেন কর্মকর্তাদের দুর্নীতিকে।

স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা অনুসারে, প্রতি ১০ বেডের ক্লিনিকের জন্য অন্তত একজন চিকিৎসক ও দুইজন নার্স থাকতে হবে। তবে স্থানীয় অধিকাংশ ক্লিনিকেই নেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক জনবল। ফলে এই ক্লিনিকগুলোতে রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে এলেও তাদের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, রাজশাহী সিটিতে অনুমোদিত (লাইসেন্স প্রাপ্ত) ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের সংখ্যা মোট ১৩৯টি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ক্লিনিক ৫০টি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৮৯টি। আর রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় অনুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক আছে ৯২টি। যার মধ্যে ক্লিনিক আছে ৪৬টি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৪৬টি।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এই সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুমোদহীন (লাইসেন্সবিহীন) ক্লিনিক আছে ৬ থেকে ১০টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে ১৮টি। উপজেলাসমূহে অনুমোদনহীন ক্লিনিক আছে ১১টি ও ডায়াগনস্টিক আছে ২০ থেকে ৩৬টি।

তবে বাস্তবে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের সংখ্যা আরও বেশি আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রাজশাহী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. এ এস এম মান্নান জানান, তারাও নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে সবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চান। তবে সরকারি কিছু নিয়ম-নীতি আছে, যা দেশের প্রেক্ষাপটে কিছুটা অসম্ভব। দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের অভাব আছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে যেসব অনুমোদনহীন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে সিভিল সার্জন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে তারা বাজারে টিকে আছেন।


আপনার মন্তব্য