শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মার্চ, ২০২১ ২৩:০৯

মাটির নিচেই শেষ প্রকল্পের টাকা

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

মাটির নিচেই শেষ প্রকল্পের টাকা

রাজশাহীর ঐতিহ্য রক্ষায় নেওয়া দুই প্রকল্পের টাকা মাটির নিচেই খরচ হয়ে গেছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ হওয়া ৪ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেলেও কয়েকটি থাম ছাড়া কিছুই ওঠেনি। রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার ও দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্প দুটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের জানুয়ারিতে। এর মধ্যে শেষ হয়েছে কেবল পাইলিংয়ের কাজ। এতে খরচ হয়ে গেছে ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় অনুদানের টাকা আছে ২ কোটি ৫৭ লাখ। এ অবস্থায় বন্ধ আছে নির্মাণ কাজ। সিটি করপোরেশন বলছে, নির্মাণ কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ২ কোটি টাকার প্রয়োজন। তারা নিজেরাই এ টাকার ব্যবস্থা করবে।

রাজশাহী নগরীর মিঞাপাড়া এলাকায় ১৮৮৪ সালে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায় গ্রন্থাগারের জন্য ৪৪ শতাংশ জমি দান করেন। এখানেই তৈরি করা হয়েছিল দ্বিতল ভবন। এর খরচ বহন করেছিলেন কাশিমপুরের জমিদার কেদার প্রসন্ন লাহিড়ী। ভারত সরকারের অনুদানে এ গ্রন্থাগারের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঐতিহাসিক ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। বইগুলো রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজশাহীতে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। অবশ্য সিটি করপোরেশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল আছে। এ প্রকল্পের অধীনে পুরনো গ্রন্থাগারের জায়গায় ৫২ ফুট উঁচু পাঁচতলা ভবনের সমান স্থাপনা নির্মাণ করার কথা। যেখানে গ্রন্থাগারের পাশাপাশি ৩০০ আসনের একটি উন্নত মিলনায়তন নির্মাণের কথা। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম আরসিসি এল-আরইএমসি জেভি। ঠিকাদারের সঙ্গে এ নির্মাণ কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশন বলছে, এর মধ্যে ভারত সরকারের অনুদানের ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা শেষ হয়ে গেছে। সঙ্গে সিটি করপোরেশনের আরও ৭০ লাখ টাকাসহ প্রকল্পে মোট ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পগুলো শেষ করতে তারা অর্থের ব্যবস্থায় নেমেছেন। শিগগিরই অর্থের ব্যবস্থা করে প্রকল্পগুলো শেষ করা হবে।  

রাজশাহীর ভাষাসৈনিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ মাস আগে ‘দেশের প্রথম শহীদ মিনার’-এর জায়গাটিতে নতুন করে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ শুরু হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা ওই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ জন্য ৫০ লাখ টাকাও সরকারিভাবে বরাদ্দ হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই শহীদ মিনারের যেটুকু কাজ হয়েছে, তা মাটির নিচেই। প্রায় দুই বছরে কিছুই দৃশ্যমান হয়নি।

নির্মাণ কাজে বিলম্বের বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন কাজটি করছে। কিন্তু এখন একদম বন্ধ। কেন বন্ধ কিছুই বলেনি তারা। আমার মেয়াদে শহীদ মিনারের কাজটি শেষ করতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু সে সম্ভাবনাও নেই।’


আপনার মন্তব্য