শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:২৪

ফিটনেস বাড়াতে করণীয়...

ফিটনেস বাড়াতে করণীয়...

মানুষ জন্মগতভাবেই শারীরিক যোগ্যতার অধিকারী। তবে সেই যোগ্যতার উৎকর্ষ সাধনের জন্য তাকে অনেক ধরনের পরিশ্রম করতে হয়। তাতেই মিলবে সুস্থ এবং সুন্দর জীবন।

আপনি হাঁটতে পারেন, দৌঁড়াতে পারেন, সাঁতার কাটতে পারেন, গাছে চড়তে পারেন, ডুব দিয়ে পানির নিচে চলতে পারেন, বৈরী আবহাওয়া যেমন- গরম-শীত, রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান মোকাবিলা করতে পারেন, আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেন, প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারেন, এ ধরনের কর্মকা- সম্পাদনের যোগ্যতাকে শারীরিক যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

মানবজাতি যখন বন-জঙ্গলে বাস করত, তখন তাদের বৈরী পরিবেশে টিকে থাকার জন্য শারীরিক যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল। যাদের শারীরিক যোগ্যতা কম ছিল, তারা বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে পারত না। বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে ন্যাচারাল সিলেকশন বলে অভিহিত করে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ এই প্রক্রিয়া চলমান। এই ধারা সর্বকালে বিরাজমান ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পৃথিবীতে যে কোনো প্রাণীর টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন শারীরিক যোগ্যতা।

 

মানুষ জন্মগতভাবেই শারীরিক যোগ্যতার অধিকারী। তবে জন্মগতভাবে প্রাপ্ত যোগ্যতা বজায় রাখতে তাকে পরিশ্রম করতে হয়। যেমন- সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ভারসাম্য রক্ষার কৌশল রপ্ত করা, যুদ্ধবিদ্যা, তীর, বন্দুক ও তলোয়ার চালানো। এসব কারণে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হওয়ায় সুস্থভাবে জীবনযাপনে সক্ষম হয়।

 

বর্তমান সময় সামাজিক নিরাপত্তা যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদাগুলোকে পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে বেঁচে থাকার মতো উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। ফলে মানুষ বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে পারে। তার মানে কি এখন মানুষের শারীরিক যোগ্যতার প্রয়োজন কমে গেছে, না মোটেও কমেনি। যারা অধিক শারীরিক যোগ্যতার অধিকারী, তারা বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যেমন- ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, উচ্চ শিক্ষা, নানা পেশাগত কাজেও শারীরিকভাবে যোগ্যরা অন্যদের চেয়ে বেশি সফল হচ্ছেন।

 

আগেই বলেছি, শারীরিক যোগ্যতা পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করতে হয় এবং নিয়মিত চর্চায় তা বজায় থাকে। বর্তমান সময় শারীরিক কর্মকা-ের অভাবে মানুষের শারীরিক যোগ্যতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে শহুরে মানুষের পরিশ্রমের মাধ্যমে শারীরিক যোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন- উচ্চ রক্তচাপ,  ডায়াবেটিস ইত্যাদি। ফলে হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শারীরিক যোগ্যতা কমে যাওয়ায় মানুষ ছোটখাটো দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অধিক হারে ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

আগের দিনের মানুষ স¦ল্প চিকিৎসায় বা বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে পারতেন, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও আমরা সুস্থ জীবনযাপন করতে পারছি না। কারণ, আমরা শারীরিক যোগ্যতা অর্জন এবং সেই যোগ্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছি। তাই সুস্থ থাকার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো শারীরিক যোগ্যতা।

 

লেখক :

ডা. এম শমশের আলী, (কার্ডিওলজিস্ট), সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য