শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:০২

ভালোবাসায় বসন্ত

ভালোবাসায় বসন্ত
♦ মডেল : পূর্ণিমা বৃষ্টি, জেসমিন জুঁই ও আসিফ ♦ পোশাক : রঙ বাংলাদেশ

শীতের জীর্ণতা ছাপিয়ে চলে এসেছে বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস...। দুই আনন্দ একই দিনে- ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেটা স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ পাবে সাজপোশাকে, অনুভবে। তাই সাজে থাকুক বসন্তবরণের ছোঁয়া আর ভালোবাসার রং।

 

বসন্ত এসে গেছে- ফুলে ফুলে, ডালে ডালে পাখির কলতানে। ফাল্গুনের বাসন্তী আবহ আর ভালোবাসা দিবসের লাল মিলেমিশে যোগ করেছে এবারের বসন্তবরণ। এক কথায় ভালোবাসাময় বসন্ত। বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের পর এখন থেকে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস। আনন্দও দ্বিগুণ। সেটা স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ পাবে সাজপোশাকে, অনুভবে। তারুণ্যের সাজে থাকবে বসন্তবরণের ছোঁয়া আর ভালোবাসার রং।

 

বসন্তবরণে নতুন হয়ে ওঠে পুরনো পৃথিবী। সঙ্গে যোগ হয় ভালোবাসার রং। বয়সে নেই ভেদাভেদ; সবাই সাজে সেজে মেতে ওঠে ভালোবাসাময় বসন্তবরণ উৎসবে। তবে তা মেকআপে নয়, ফুলের রং আর সাজপোশাকে। নানা রঙের ফুলের ব্যবহারে সাজে আসে রঙিন ভাষা। না গরম না শীতের এমন আবহাওয়ায় পরিধেয় পোশাকটি হওয়া চাই আরামদায়ক। আঁটসাঁট পোশাক এমন সময় সম্পূর্ণ বেমানান। তাই আমাদের দেশে আরামদায়ক পাতলা পোশাকই বেছে নেন সব বয়সী মানুষ। ঋতুরাজ বসন্ত প্রকৃতিতে ফিরে আসায় যে আনন্দ, তা পালন করা হয় অনেক দেশেই। মজার বিষয় হলো- আমরা রঙিন পোশাকে বসন্তবরণ করি, পাশের দেশ ভারতে সাদা পোশাকে বসন্তবরণ হয়। কারণ, এদিন সবাই মেতে ওঠে রং খেলায়। বুলগেরিয়ায় মার্চের ১ তারিখে বসন্ত ফিরে আসার দিনটি পালন করা হয়। এ দিন সে দেশে পরিচিত গ্র্যান্ডমা মার্চ ডে নামে। লাল ও সাদা সুতায় তৈরি ছোট দুটি পুতুল বানিয়ে পরে থাকে প্রায় মাসজুড়ে, অনুষঙ্গ হিসেবে। বসন্তের প্রথম আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলের গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় শুভকামনা হিসেবে। হানামি বা চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল জাপানের বসন্ত উৎসব। ফুলে ভরে থাকা চেরিগাছের নিচে জড়ো হন সবাই।

 

এ প্রসঙ্গে রঙ বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক সৌমিক দাস বলেন,  যেহেতু পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে- উৎসবকে দ্বিগুণ করতে উজ্জ্বল ফুলেল রঙের নানান পোশাকের মধ্য থেকে যুগল পোশাক বেছে নিতে পারেন। এমনকি শিশুসহ পরিবারের অন্যদের জন্যও এমন উজ্জ্বল রঙের পোশাক মানানসই। বয়স ও রুচি অনুযায়ী রঙের ভিন্নতাও বেছে নিতে পারেন। হালকা নকশার পোশাকই উৎসবগুলোর উপযোগী।

সারা দিন ঘুরে বেড়ানোর সময় পোশাকের আরামের বিষয়টি খেয়াল রাখুন। সুতির পোশাকে আরাম পাবেন। মেয়েদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া বাজারে রয়েছে। যারা শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা সুতির হালকা রঙের শাড়ি, টাঙ্গাইলের শাড়ি অথবা ব্লক-বাটিকের সুতি ট্রেন্ডি শাড়ি বেছে নিতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজটি রাখুন আধুনিক কাটের। শাড়ি পরার ধরনেই চলে আসে ভিন্নতা। যাদের শাড়িতে অনীহা তারা সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া-স্কার্ট কিংবা টপস-জিন্স পরিধান করতে পারেন। তবে শাড়ি, স্কার্ট, ফতুয়া কিংবা কামিজ- যেটাই পরুন; উজ্জ্বল রং, ফুলেল মোটিফ, ডোরাকাটা কিংবা পলকা থাকতে পারে নকশায়। বেইলি রোডের শাড়ির দোকানগুলো ঘুরে চোখে পড়ল হলুদ, সবুজ আর লাল রঙের লুঙ্গি চেকের শাড়িগুলো বেশ চলছে এবার। তরুণীরা একটু উজ্জ্বল রঙের শাড়ি পছন্দ করছেন বলেও জানালেন বিক্রেতারা। শাড়িজুড়ে এই যে রঙের বৈচিত্র্য, তার মধ্যে যেন বসন্ত আর ভালোবাসার রং দুটোই থাকে- সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা।

 

ছেলেদের পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবি, শার্ট আর ফতুয়া তো আছেই- কয়েক বছর ধরে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসে টি-শার্টও পরতে দেখা যাচ্ছে তরুণদের। একই দিনে দুটি আনন্দ- তাই ফ্যাশন কারিগররাও সাজিয়েছেন তাদের পোশাকের পসরা। বাসন্তী, লাল আর সাদার মিশ্রণে পোশাকের জমিন হয়ে উঠেছে রঙিন। তবে পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া আর টি-শার্ট যাই হোক না কেন- সুতির চেয়ে আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না।

 

ফাগুনের কোমলতা আর ভালোবাসার সাজে হোক হালকা। গয়নায় তাজা ফুল থাকুক বা কৃত্রিম ফুল, উৎসবের উপলক্ষ ফুটে উঠবে তাতেই। এ বছরও বসন্তময় ভালোবাসার সাজে থাকবে ফুলের ব্যবহার। চুলের সাজে ব্যান্ডানার ওপর লাগিয়ে নিতে পারেন পছন্দসই ফুল। ছোট আকারের ফুল পরতে যদিও সবাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বড় ফুল যদি ব্যান্ডানায় ঠিকঠাক লাগাতে পারেন, পরতে ও দেখতে ভালোই লাগবে।

 

ভালোবাসা দিবস ও পয়লা ফাল্গুন- দুই উৎসবই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। প্রেমিকযুগল হলে দিনটি ঘিরে আয়োজনের পরিকল্পনা ছাড়া উপায় নেই। তবে দম্পতিরাও একজন আরেকজনকে এই দিনগুলোতে বিশেষ আয়োজনে চমকে দিতে পারেন। এতে দুজনের ভালোবাসা আরও গাঢ় হবে।

 

যেহেতু করোনাকাল চলছে, তাই মহামারীর কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়া উচিত। আবশ্যিক মাস্কের ব্যবহারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে-বেড়ানো, ভিড় এড়িয়ে পালন করুন বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস। বসন্তের রঙে সবার ভালোবাসা থাকুক অমলিন।

 

লেখা : ফেরদৌস আরা


আপনার মন্তব্য