রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালি আবহাওয়া আর ধুলোবালির এ শহরে ত্বকের সতেজতা ধরে রাখা কঠিন। আমরা অনেকেই দামি ক্রিম বা সিরামের ওপর ভরসা করি, কিন্তু আসল সত্যিটা হলো- ত্বকের উজ্জ্বলতা আসে ভিতর আর বাইরের সঠিক ‘আর্দ্রতা’ বা হাইড্রেশন থেকে। এই আর্দ্রতার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে ‘বিউটি ওয়াটার’-এ।
চার বেলার ‘হাইড্রেটিং’ রুটিন
শুধু দিনে আট গ্লাস সাধারণ পানি খাওয়াই যথেষ্ট নয়। শরীরকে ভিতর থেকে চাঙা রাখতে আপনার সারা দিনের পানীয়র তালিকায় আনুন একটু টুইস্ট-
♦ সকাল : দিন শুরু করুন এক গ্লাস তাজা ফলের রস দিয়ে। সঙ্গে এক গ্লাস সয়া মিল্কের কফি, যা দেবে কাজের উদ্যম।
♦ দুপুর : লাঞ্চের পর এক কাপ গরম গ্রিন টি। এটি ডায়েট ব্যালান্স করবে, আর মস্তিষ্কে এনে দেবে দারুণ সতেজতা।
♦ সন্ধ্যা : এক গ্লাস ডালিমের রস। এর আয়রন সুস্বাস্থ্য ও লাবণ্যতা ধরে রাখবে।
♦ রাত : ঘুমানোর আগে এক গ্লাস শসা ভেজানো পানি শরীরকে ডিটক্সিফাই করবে।
রূপচর্চায় ছয়টি ‘বিউটি ওয়াটার’ প্রকৃতির তৈরি এই পানীয়গুলোর নাম যেমন ভিন্ন, এদের কাজও তেমনি অসাধারণ-
♦ কিউকাম্বার ওয়াটার (শসার পানি)
ত্বক হাইড্রেট করার পাশাপাশি চোখের চারপাশের ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ দূর করতে এর জুড়ি নেই। শসার রস চোখে মেখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
♦ রাইস ওয়াটার (চাল ধোয়া পানি)
ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এ পানি ত্বকের বড় হয়ে যাওয়া লোমকূপ সংকুচিত করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। চুলে ব্যবহার করলে এটি চুলের গভীরে পুষ্টি জোগায়। সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহারই যথেষ্ট।
♦ জিন্টার ওয়াটার (আদা পানি)
এটি কেবল স্বাস্থ্যের জন্য। অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা, পিরিয়ডের ব্যথা, মাথাব্যথা, ঠান্ডা লাগা এবং বদহজম থেকে মুক্তি দেয়।
♦ মিন্ট ওয়াটার (পুদিনা পানি)
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর পুদিনা পাতা শরীরের ভিতরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। বিপাকক্রিয়া ঠিক রেখে এটি ব্রণ দূর করে চেহারায় লাবণ্য ফিরিয়ে আনে।
♦ হানি-লেমন ওয়াটার (মধু-লেবুর পানি)
সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, ওজন কমায় ও ব্রণের উপদ্রব কমায়।
♦ রোজ ওয়াটার (গোলাপজল)
গোলাপজলে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও জ্বলনবিরোধী উপাদান। এটি মূলত ত্বকের অলরাউন্ডার হিসেবে কাজ করে :
১. সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহারের কারণে ত্বকের পিএইচ লেভেল নষ্ট হয়। যা ত্বকের
পিএইচ স্বাভাবিক অবস্থায় (৫.৫) ফিরিয়ে আনে।
২. নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর হয়, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস কমে।
প্রাকৃতিক মেকআপ রিমুভার : ২ চা চামচ গোলাপজলের সঙ্গে ২ চা চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে সহজেই মেকআপ তুলে ফেলা যায়।
চুলের যত্নে গোলাপজল
শুষ্কতা দূর করতে ও চুল মজবুত করতে :
-যা লাগবে : ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল (৫-১০ সেকেন্ড হালকা গরম করা), ৩ টেবিল চামচ গোলাপজল, ২ ফোঁটা গাজর বীজের তেল এবং ২ ফোঁটা ইলাং ইলাং তেল।
-ব্যবহার : উপাদানগুলো মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তোয়ালে পেঁচিয়ে ৩ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।
♦ খুশকি তাড়াতে মেথি-গোলাপজল :
-যা লাগবে : ১ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ গোলাপজল, ১ ফোঁটা পুদিনার তেল এবং ১ ফোঁটা মেন্থল তেল।
-ব্যবহার : গোলাপজলের সঙ্গে মেথি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তেলগুলো যোগ করুন। মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ৪০ মিনিট রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করে নিন।