সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি কেউ আটকালে ‘হাত কেটে ফেলা হবে’। গতকাল এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এ বক্তব্যের ফলে কয়েক দশকের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান তার ন্যায্য পানির অংশ থেকে কাউকে বঞ্চিত করতে দেবে না। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর বরাতে তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পানির উৎস নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন। দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অন্য কোনো দেশ যদি পাকিস্তানের পানিপ্রবাহে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, প্রায় অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির প্রায় ২৫ শতাংশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মুসাদিক মালিক আরও বলেন, ‘আমরা আগেই জানিয়েছি, কেউ যদি আমাদের প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা নিজেদের রক্ষা করব। এটি নতুন কোনো বক্তব্য নয়। অতীতেও আমরা দেখিয়েছি, কেউ যদি আমাদের প্রাপ্য পানির ওপর হাত তোলে, আমরা সেই হাত কেটে ফেলব।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে উজান থেকে ভাটিতে নদীর পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘উজানের প্রতিটি দেশের কি ভাটির দিকে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার আছে? আমাদের ক্ষেত্রে তো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিও বিদ্যমান। তাহলে পানি আটকে দেওয়ার প্রশ্ন আসে কেন?’ তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, মালিকের এসব বক্তব্য পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তারা স্বাধীনভাবে বক্তব্যগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
-এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া