Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৬
কৃষি সংবাদ
মুরগির খামার করে লাখপতি
দিনাজপুর প্রতিনিধি
মুরগির খামার করে লাখপতি

মাত্র ২৫ হাজার টাকায় মুরগির খামার করে বেকার যুবক আফসার আলী ১৫ বছরে ২৫ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন।

আফসার চাকরির পিছে হন্যে হয়ে না ঘুরে ছোট মুরগির খামার গড়ে তোলেন।

মাদ্রাসা থেকে কামিল (মাস্টার্স) পাস করে বেকারত্ব দূরে ঠেলতে মায়ের দেওয়া ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ১০০ লেয়ার মুরগি কিনে ২০০১ সালে এ খামার করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০১ সাল থেকে ১৫ বছর পেরিয়েছে। এখন সেই ২৫ হাজার টাকার পুঁজি ২৫ লাখ ছাড়িয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে এখন প্রতি মাসে ডিম বিক্রি করে আফসারের আয় হচ্ছে ৭০ হাজার টাকার মতো। আফসার আলী বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার গোপালপুর গ্রামের মৃত ওসমান গনির ছেলে। স্বাবলম্বী যুবক আফসার জানান, ১৯৯৬ সালে পরিবারের দরিদ্রতার মধ্যেও দিনাজপুর নুরজাহান আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে বিরলের বুনিয়াদপুর মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক পদে চাকরি নেন। সেখানে দুই বছর চাকরি করলেও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় হতাশার মধ্যে পড়েন। এ সময় তৎকালীন বোচাগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরামর্শে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাঁস-মুরগি পালনের ওপর ত্রৈমাসিক প্রশিক্ষণ নেন। শেষে মায়ের দেওয়া টাকা দিয়ে বাড়িতে ছোট্ট পরিসরে মুরগির খামার গড়ে তোলেন। তার মুরগির খামার দেখে বোচাগঞ্জ যুব উন্নয়ন অফিস তাকে উৎসাহিত করতে প্রথমে ২৫ হাজার টাকা, পরে ৭৫ হাজার টাকা ঋণ দেয়। আফসার জানান, ব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে নিজের লভ্যাংশ দিয়ে খামার বর্ধিত করেন। বর্তমানে তার খামারের পৃথক তিনটি শেডে ৫ হাজার হাইসেক্স ও ব্রউনিক জাতের ডিম পাড়া মুরগি রয়েছে; যা থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। খামার দেখাশোনার জন্য পাঁচজন কর্মচারী রেখেছেন; যারা সর্বক্ষণ খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মুরগির রোগবালাইয়ে চিকিৎসা করাসহ খাদ্য খাওয়ান। দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে ২০০৭ সালে একবার ব্যাপকহারে বার্ডফ্লু দেখা দেওয়ায় খামারের প্রায় ১ হাজার মুরগি মেরে ফেলা হয়। তখন কিছুটা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পরে সরকার কর্তৃক প্রায় ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পান। আফসার বলেন, ‘সবকিছুই মায়ের দোয়া। এ মুরগির ফার্ম দেখে আশপাশের সাত-আট জন বেকার যুবকও চাকরির পেছনে ধরনা না দিয়ে পোলট্রি ফার্ম ও নার্সারি করেছেন। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow