ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও চোখে পড়ছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। জেলার বিভিন্ন গ্রামে তালগাছে ঝুলছে বাবুই পাখির শত শত দৃষ্টিনন্দন বাসা। বিশেষ করে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিয়ান গ্রামের মাঠ, সদর উপজেলার গান্না বাজার সংলগ্ন মাঠ এবং পাগলাকানাই ইউনিয়নের বাড়িবাথান ও ফকিরাবাদ গ্রামের রাস্তার পাশের তালগাছগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা মিলছে বাবুই পাখির।
স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখির ওড়াউড়ি এবং বাসা তৈরির ব্যস্ততা সহজেই নজর কাড়ে। খড়, শুকনো ঘাস ও গাছের আঁশ দিয়ে নিপুণ কারুকাজে তৈরি করা ঝুলন্ত বাসাগুলো পথচারীদেরও মুগ্ধ করছে। অনেকেই থেমে মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, কয়েক বছর আগেও এতো বেশি বাবুই পাখি দেখা যেত না। সম্প্রতি তালগাছের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি, নিরাপদ পরিবেশ এবং খাদ্যের সহজলভ্যতার কারণে বাবুই পাখির সংখ্যা বেড়েছে বলে তাদের ধারণা।
পাখিপ্রেমীরা জানান, বাবুই পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ, তালগাছ রক্ষা এবং পাখি শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, ঝিনাইদহের গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখির এই ফিরে আসা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তালগাছ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাবুই পাখির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল