Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৯ ১৮:৩৭

নগর সভাপতির বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি নেতার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

নগর সভাপতির বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি নেতার মামলা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল আনোয়ারের বাসায় হামলার অভিযোগে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা দয়ের করা হয়েছে। এতে নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহ এবং দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলম তালুকদারের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাতে নুরুল আনোয়ার বাদি হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলাটি করেছেন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপি নেতা নুরুল আনোয়রের বাসায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই বিএনপি নেতার অভিযোগ, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহ’র নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তবে ডা. শাহাদাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে নগরীর চান্দগাঁও থানার কে বি আমান আলী রোডের মনোরমা আবাসিক এলাকায় দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা নুরুল আনোয়ারের বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পাশাপাশি তিনি চন্দনাইশ পৌরসভা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

এদিকে নুরুল আনোয়ার বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক সভায় সাংগঠনিক কমিটি গঠনে আমি শাহাদাত সাহেবের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তার সম্পর্কে বক্তব্যে কিছু কথা বলি। অভ্যন্তরীণ সভার এসব বক্তব্য সেখানকার কেউ শাহাদাতকে পৌঁছে দেন। এতে আমার উপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহাদাত সাহেব আমাকে ফোন করে আমি কেন উনার বিরুদ্ধে কথা বলেছি জানতে চান। এসময় তার সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি আবারও ফোন করে লালদিঘীর পাড়ে সুগন্ধা হোটেলে আমার অফিসে আসার কথা বলেন। আমি অপেক্ষা করলেও উনি আসেননি। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি আবারও ফোন করে আমাকে হুমকি দেন। এর ঘণ্টাখানেক পর আমার বাসায় আকস্মিকভাবে হামলা হয়।’

নুরুল আনোয়ারের দাবি, গাজী সিরাজ উল্লাহ বুধবার সন্ধ্যায় মোটর সাইকেলে করে তার বাসার সামনে যান। এসময় সেখানে আরও কমপক্ষে ৩০ জন জড়ো হন। ৮-১০ জন বাসার ভেতরে ঢুকে প্রথমে কলাপসিবল গেইট বন্ধ করে দেন। তারপর সেখানে ভাড়াটিয়ার একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করেন। কয়েকটি বাসার কাচের জানালা ভাংচুর করেন। বাসার সামনে রাখা ফুলের টবসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার সাহেব রাজনীতি করেন গ্রামে, আমি করি শহরে। আমার সঙ্গে তো উনার কোনো বিরোধ নেই। আমি কেন হামলার নির্দেশ দেব? আমি শুনেছি- এলাকার লোকজনের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে উনার বিরোধ আছে। সেই বিরোধ নিয়ে উনার ছেলের সঙ্গে এলাকার কিছু লোকের সমস্যা হয়েছে। এরপর হামলা হয়েছে। উনার বাসার সামনে যদি সিসি ক্যামেরা থাকে, সেখানে দেখা হোক যে, আমি হামলার সময় ছিলাম কি না।’

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য