শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ মে, ২০২১ ১১:৫১
আপডেট : ১৪ মে, ২০২১ ০০:১৯
প্রিন্ট করুন printer

মিতু হত্যা মামলা : কে এই গায়ত্রী?

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

মিতু হত্যা মামলা : কে এই গায়ত্রী?
বাবুল আক্তার-মাহমুদা খানম মিতু
Google News

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় উঠে এসেছে গায়ত্রী অমর সিং নামে এক নারীর নাম। মিতুর পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে গায়ত্রীর সাথে পরকীয়ার জের ধরেই এ খুনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি উল্লেখ করা রয়েছে মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায়ও। মিতু খুনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন গায়ত্রী। তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন।

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গায়ত্রীর সাথে পরকীয়ার জের ধরেই মিতুকে খুন করা হয়েছে। যা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুনেছি মিতু খুন হওয়ার পর বাংলাদেশ ছেড়ে যায় গায়ত্রী। বর্তমানে কোথায় আছে তা জানা নেই।’

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মিতু খুনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন গায়ত্রী। তিনি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের রাষ্ট্র নেদারল্যান্ডে রটারডামে রয়েছেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করছেন।

জানা যায়, আলোচিত নারী গায়ত্রী অমর সিং একজন ভারতীয় নাগরিক। তিনি এক সময় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)’র ফিল্ড অফিসার (প্রোটেকশন) হিসেবে কমর্রত ছিলেন কক্সবাজারে। একই সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজারে দায়িত্বরত ছিলেন বাবুল আকতার। অফিসিয়াল সূত্র ধরেই বাবুল আকতার ও গায়ত্রীর পরিচয় হয়। পরে তা পরকীয়ায় রূপ নেয়। ২০১৪ সালে মিতুর নজরে আসে বাবুলের পরকীয়ার বিষয়টি। তখন বাবুল আকতার শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে ছিলেন। বাবুল আকতারকে দেয়া গায়ত্রীর ‘তালিবান’ বইয়ে উঠে এসেছে দুই জনের সম্পর্কেও কিছু চিত্র। ওই বইয়ে  লেখা রয়েছে, ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গায়ত্রীর সাথে প্রথম দেখা হয় বাবুলের। একে অপরকে প্রথমবার চুমো খান ৫ অক্টোবর। এর দুই দিন পর ৭ অক্টোবর দুজনের মধ্যে প্রথম শারীরিক সম্পর্ক হয়। ৮ অক্টোবর দুজনে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হাঁটেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। খুনের এক মাসের মধ্যেই এ খুনের সরাসরি অংশগ্রহণকারী এবং অস্ত্র সরবারহকারীসহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন খুনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী রাশেদ ও নবী।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর