শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ নভেম্বর, ২০১৫ ২৩:৫৯

সিআরবিতে সংঘর্ষের তিন মামলায় আসামি ৭১৯

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

সিআরবিতে সংঘর্ষের তিন মামলায় আসামি ৭১৯

যুবলীগ-ছাত্রলীগেই ‘ক্ষত-বিক্ষত’ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের রেলওয়ে বাংলাদেশ (সিআরবি) এলাকা। আধিপত্য বিস্তার, রেলের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক-ইয়াবা ব্যবসা, খুন ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের নেতারাও। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ঠিকাদাররাও কাজ করতে পারছেন না নিয়মতান্ত্রিকভাবে। সংঘর্ষের ঘটনায় তিন মামলায় ১৬৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ৫৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত রবিবারের ঘটনায় পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সিআরবির আশপাশের স্থানীয়রাসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে অফিস করছেন বলেও জানা গেছে। পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‍্যাবের টহল ছাড়াও রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি। রবিবার দুপুরে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ২৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১২ অক্টোবর সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ে গোয়ালপাড়ার স্থানীয় ও যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবর অনুসারীদের সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের অনুসারীদের হামলার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। এ মামলায়ও ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সিআরবিতে প্রকাশ্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতে শিশুসহ দুজন নিহতের ঘটনায় ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ২০৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এ মামলার আসামিদের বেশিরভাগই প্রতিটি মামলায় আসামি রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, রবিবারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ১২ অক্টোবরের ঘটনায়ও ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ২৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। উক্ত মামলার আসামিরাসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযানও চলছে। তবে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে। সিআরবিসহ নাশকতার স্পট চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর বাবর বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজসহ অপকর্ম যুবলীগ বিশ্বাস করে না। এতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গিয়ে মিথ্যা যড়যন্ত্রমূলক মামলা হয়েছে। তবে সিআরবি এলাকায় যেসব অপরাধমূলক কাজ হচ্ছে এ বিষয়ে কোনোভাইে আমি অবগত নই। একটি মহল আমাকে ও দলকে বিতর্কিত করতে নেপথ্যে থেকে এমন কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছেন। তবে যুবলীগসহ দলকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ করছি।

যুবলীগ দাবি করে সাইফুল ইসলাম লিমন বলেন, আমাকে ছাত্রলীগ থেকে বর্তমান কমিটি কীভাবে বহিষ্কার করবেন। আমি সোহাগ-নাজমুল ভাইয়ের কমিটির নিয়ন্ত্রণেই ছিলাম। আর এখন তো আমি ছাত্রলীগ করি না, যুবলীগ করি। এটা অনেকেই জানেন। তিনি বলেন, সিআরবি এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে। এগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আমার নামের আগে সন্ত্রাসীর কালিমা লাগানোর জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে।

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, ছাত্রলীগ কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। এটি যারা করবেন একান্তই ব্যক্তিই দায় নেবেন। এটি ঐহিত্যবাহী সংগঠন। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ গঠনতান্ত্রিকভাবেই কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

মামলার এজাহার ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, হেলাল আকবর বাবর ও সাইফুল ইসলাম লিমন ছাড়াও নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী হোসেন, খোকন চন্দ্র তাঁতী, শামীমুল ইসলাম শামীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি একরামুল হক রাসেল, জিকু, যুবলীগ নেতা অজিত বিশ্বাস, ছোটন বড়ুয়া, ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, নজরুল ইসলাম, মিশিন মনিরসহ তিনটি পৃথক মামলা হত্যা, ছিনতাই মামলার একাধিক আসামি রয়েছে। এতে অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গেছেন। একই সঙ্গে অনেকেই ওয়ারেন্টের আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ তিনটি পৃথক মামলার বাদী পুলিশ। বর্তমানে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারিতে সংঘটিত ঘটনার মামলাটির তদন্তভার ডিবিতে রয়েছে। ১২ অক্টোবরের ঘটনার মামলার দায়িত্বে আছেন এসআই রুহুল আমীন ও ১ নভেম্বরের ঘটনায় দায়িত্বে আছেন এসআই হারুনুর রশীদ।

 


আপনার মন্তব্য