শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৩৬

জেলখাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের আলটিমেটাম

জলাবদ্ধমুক্ত বরিশাল নগরী গড়ার উদ্যোগ

রাহাত খান, বরিশাল

জেলখাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের আলটিমেটাম

বরিশাল নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবহমান ঐতিহ্যবাহী জেলখাল দখলমুক্ত করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল নগরীর ফরিয়াপট্টি এলাকায় খালের দুই পাশের সীমানা চিহ্নিত করে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেন। নিশানার মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য দখলদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে। উল্লেখ্য, জেলখালের উত্সস্থল হচ্ছে হাটখোলা সেতু সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী থেকে। সেখান থেকে খালটি বাজার রোড থেকে নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এর শাখা-প্রশাখা বিভিন্ন দিকে বয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে এ জেলখাল। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সার্ভেয়ার আশরাফ হোসেন জানান, বরিশাল নগরীর মধ্যে জেলখালের অংশ রয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার। স্থান ভেদে খালের প্রস্থ ৩৫ থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত। কিন্তু দুই পাশ দখলের কারণে ২০ ফুট প্রস্থও নেই। ফরিয়াপট্টির একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দখল ও নাব্য হারিয়ে এক সময়ের খরস্রোতা জেলখালে এখন জোয়ার-ভাটা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীর খালের প্রবেশমুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন জোয়ারের পানিও ঢুকছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলখাল দখলমুক্ত করতে কয়েকবার অবৈধ দখলদারদের তালিকা করা হয়েছে। নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০০৪ সালে স্বেচ্ছায় খাল খনন কর্মসূচি পালন করেন তত্কালীন সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে এসবের পরও ক্রমশই অস্তিত্ব হারাতে চলছে জেলখাল। এমন অবস্থায় নগরবাসীর দাবির মুখে জেলখাল দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান। তিনি উপস্থিত থেকে দুপুর ১২টায় ফরিয়াপট্টির ম্যাপ অনুযায়ী খালের দুই পাশের সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান টানিয়েছেন। খালের সীমানার মধ্যে থাকা স্থাপনা অপসারণের জন্য সেখানকার ব্যবসায়ীদের সময় দেওয়া হয়েছে আজ পর্যন্ত। এ সময় অতিক্রমের পরই শুরু হবে উচ্ছেদ অভিযান।


আপনার মন্তব্য