Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০৯

রেলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

রেলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রেলওয়ের বিশাল একটি অংশ, বিভিন্ন বস্তি ও দোকানসহ নানা স্থাপনায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়তলী, টাইগারপাস, ওয়ার্লেস কলোনি, আমবাগান, সিআরবি, রেলস্টেশন, নতুন স্টেশনের পাশে পরিত্যক্ত পুলিশ ব্যারাকসহ আরও কয়েকটি স্থানে রেলের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ চুরির এ কাজে বিদ্যুৎ বিভাগের চিহ্নিত কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেলের একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ অবৈধ কাজ চলে এলেও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় অত্যন্ত প্রতাপশালী এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। এতে প্রতি মাসে সরকারের কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সরেজমিন রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও স্থানীয়ভাবে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ডিভিশনের বিভিন্ন স্থানে রেলের একাধিক অবৈধ বসতিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে পাহাড়তলী এলাকার আমবাগান সমাজ কল্যাণ পরিষদের পাশের রেলের সরকারি ৫৯১, ৫৯২, ৫৯৩, ৫২৪, ৫২৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের পেছনে প্রায় ৪০০ অবৈধ বসতিঘর রয়েছে। টাইগারপাস ওয়াটার ওয়ার্কের ভিতর দিয়ে বস্তিতে ১৩ নম্বর সরকারি বাসার সামনে ৪০টি কাঁচা ঘর রয়েছে। টাইগারপাস সমাজ কল্যাণ অফিসের দক্ষিণ পাশে ২৫টি দোকান ও ১০০টি ঘর রয়েছে। তাছাড়া গ্যাং কোয়ার্টারের পাশেও অবৈধ বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। রেলের বিদ্যুৎ বিভাগের স্টাফ লাল মিন্টু ও প্রিন্স মাহমুদের নেতৃত্বে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। তাছাড়া এসব এলাকায় অনেক রেলের সরকারি কোয়ার্টার খালি রয়েছে। এই বাসাগুলোও বিভিন্ন সিন্ডিকেট কৌশলে ভাড়া দিয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে রেলের স্টাফ লাল মিন্টুকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই বলেন, রেলের জায়গায় যেসব অবৈধ বস্তি ও দোকান রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চলছে। তাছাড়া অবৈধভাবে যারা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে এবং নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রেলের অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রেল এলাকায় অবৈধ বস্তি ও দোকানগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগগুলোও চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করলেও রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটির কারণে আবারও উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলো অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর