Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫৯

গলির দোকানিরাই ‘ডাক্তার’

অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

গলির দোকানিরাই ‘ডাক্তার’

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হরিণখাইন গ্রামের ইয়াকুব আলী। বাসায় আগুন ধরলে নেভাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয় তার একটি পা। পরে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান। সেখানে প্রাথমিকভাবে ভালো হলে তিনি বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু কিছু দিন পর আবারও পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হয়। এবার তিনি যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, রোগীকে অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর ফলে পায়ে সংক্রমণ হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের ঘাটফরহাদবেগ এলাকার একটি ফার্মেসিতে অবস্থান করে দেখা গেছে, মধ্যবয়সী এক লোক আসেন ১০১ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে। ফার্মেসি কর্তৃপক্ষ তাকে তখন অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট জিম্যাক্স ৫০০ দিয়ে বললেন দৈনিক দুটি করে তিন দিন খেতে। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, এভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এবং অনিয়ন্ত্রিত হারে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহারের মাত্রা ক্রমে বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। ফলে ক্ষেত্রবিশেষ এটি হারাচ্ছে প্রতিরোধক্ষমতা। রোগীরা পড়ছে স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকিতে। অলিগলি ও গ্রামগঞ্জের ফার্মেসির দোকানিরাই হয়ে উঠেছেন চিকিৎসক। তারা কেবল অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই ক্ষতিসাধন করেন না, অধিকাংশ সময় কোর্স ছাড়াই দেন অ্যান্টিবায়োটিক।

তবে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অ্যান্টিবায়োটিকের অতিব্যবহার ঠেকাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিয়মিত সেমিনার-আলোচনা সভা ছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামীতে অ্যান্টিবায়োটিকের প্যাকেটের গায়ে ‘ফুল কোর্স শেষ না করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে’ কথাটি থাকা, প্রতিটি ফার্মেসিতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার চালু এবং তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা মনিটরিং করার উদ্যোগ নিচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা সংগঠন ইয়ুথ ফর ওয়েলফেয়ারের সাধারণ সম্পাদক ও এমবিবিএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হামিদ হোছাইন আজাদ বলেন, ‘মূলত অ্যান্টিবায়োটিক জীবিত ব্যাকটেরিয়া তথা অণুজীবের বিপরীত কাজ করে। যেসব রোগ সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়, তা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এজন্যই ভাইরাসজনিত রোগের বিপরীতে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। এক জীবাণুর বিরুদ্ধে যেমন সব অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, তেমন সব জীবাণুর বিরুদ্ধে একই অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার অনুচিত।’ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াটা অত্যন্ত উদ্বেগের। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সবাইকে সচেতন-সতর্ক করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে সরকারি উদ্যোগেই অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসক, রোগী ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়া। অন্যথায় গুরুতর রোগেও অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ দেবে না।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রফিকুল মাওলা বলেন, ‘কোর্স শেষ না করে এবং ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এর কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রোগীদের অসচেতনতা অনেকটা দায়ী। কোর্স শেষ না করলে রোগীর শরীরের ভিতরে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া রোগজীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিকবিরোধী হয়ে ওঠে। কিন্তু পরে আবার সেগুলো সক্রিয় হয়ে অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে দেয়। কোর্স শেষ করলে তারা আর সক্রিয় হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘গ্রাম-গঞ্জে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। এটি ঠেকাতে নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিষিদ্ধ করা জরুরি। অন্যথায় গুরুতর রোগেও প্রতিরোধী ওষুধ পাওয়া যাবে না।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর