শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:১৩

গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে ভোট

তালুকদার খালেকের ৩১ দফা ইশতেহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

তালুকদার খালেকের ৩১ দফা ইশতেহার
Google News

‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ৩১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খুলনায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে তিনি আধুনিক ও পরিকল্পিত তিলোত্তমা নগরী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। আবদুল খালেক বলেন, ‘২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর খুলনার অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছি। পরিকল্পিত ও উন্নত নগর গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হতে না পারায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’ নতুন ঘোষিত এ ইশতেহারে রয়েছে পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শক কমিটি, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, মাদকমুক্ত নগর, সিটি সেন্টার, বিনামূল্যে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ, সড়ক উন্নয়ন, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ ও খুলনা মহানগরীর সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ কর্মসূচি।

আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘আগে পাঁচ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করতে সক্ষম হয়েছি। পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হলে আগের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করব।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী এস এম কামাল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, সাবেক এমপি সোহরাব আলী সানা।

কমিটি নিয়ে ১৪ দলে ক্ষোভ : খুলনায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় ১৪ দলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনা ছাড়াই কমিটি গঠন ও ১৪ দলের নেতাদের মূল্যায়ন না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন জোটের নেতারা। জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদকে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেনকে প্রধান সমন্বয়কারী ও নগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হককে আহ্বায়ক করে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটিতে শরিক ১৪ দলের নেতাদের উল্লেখযোগ্য কোনো পদে রাখা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ১৪ দলের নেতারা।

জাসদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হোসেন জানান, ১৪ দলের নেতারা মঙ্গলবার রাতে মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে জাতীয় পার্টি (জেপি) অফিসে আলাদা বৈঠক করে আওয়ামী লীগের ওই কমিটিকে বর্জন করেছে। ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি তপন কুমার রায় বলেন, তারপরও আমরা আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় থাকছি। তবে ১৪ দলের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। যাতে ‘প্রচারে-১৪ দল’ লেখা থাকবে। 

ডিজিটাল প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। ‘ভোট ফর খালেক’ নামে একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।

আর বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছে ‘বিএনপি খুলনা ডট কম’। মাইকিং-পোস্টার ও লিফলেট বিতরণের মাঝে এভাবে শুরু হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার। ‘ভোট ফর খালেক’ ওয়েবসাইটে ভোটারদের জনসমর্থন চাইছেন তালুকদার আবদুল খালেক। বিএনপির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একইভাবে ভোট চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার চালানো হচ্ছে।

তালুকদার আবদুল খালেক : আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক গতকাল সকালে নতুন বাজার কাঁচা বাজার, দলীয় অফিস, স্যার ইকবাল রোড, বড় বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও কাস্টমঘাট এলাকায় জনসংযোগ করেন। এ সময় তিনি খুলনা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন ও সবার জন্য বসবাসযোগ্য আধুনিক মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু : এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল লবণচরা বাজার, শেখপাড়া, শিববাড়ী মোড়, আদালতপাড়া, চাঁদমারী বাজার, রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকায় প্রচার চালান। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর খুলনাবাসী ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভোটারদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে নগরবাসী অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপি ৬২ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এবার ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি বিজয়ী হবে। এ সময় ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ : তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে ফের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

জানা যায়, তালুকদার আবদুল খালেক নিজের প্রাইভেটকারে নৌকা প্রতীকের পোস্টার লাগিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। তার এ আচরণ কেসিসি নির্বাচন বিধিমালার ৮ (৮) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গতকাল এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ : আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে সমর্থন জানিয়েছে খুলনা মহানগরী নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ।

গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সমর্থন জানান সংগঠনের নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. শেখ বাহারুল আলম। তিনি বলেন, বিগত ২৮ বছরে খুলনায় বিএনপির দুজন ও আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক একবার মেয়র ছিলেন। মাত্র পাঁচ বছর সময় পেলেও তালুকদার আবদুল খালেক খুলনাবাসীর কাছে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন; যা খুলনাবাসীর কাছে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমান, মকবুল হোসেন মিন্টু, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মোকাদ্দেস হোসেন, এস এম জাহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, খলিলুর রহমান, সুবীর রায়, শাহিন জামান পন, সদস্যসচিব হুমায়ুন কবির ববি, এস এম জিয়াউল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, চৌধুরী মোহাম্মদ রায়হান ফরিদ, শ্যামল সিংহ রায়।

এই বিভাগের আরও খবর