শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:১৪

হজে উড়োজাহাজ সংকটের আশঙ্কা

মোস্তফা কাজল

Google News

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামী ১৪ জুলাই থেকে। ৪ জুলাই হজের ফ্লাইট শিডিউল বণ্টন করবে সৌদি আরব। পাশাপাশি ওই দিন ফ্লাইট শ্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে। এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য দুটি সুপরিসর (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ লিজ নিয়েছে বিমান। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো হজের বিমান টিকিটের বুকিং বাতিল করলে জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বিমানের বহরে উড়োজাহাজ কম থাকায় হজযাত্রী পরিবহনে সংকটের আশঙ্কা করছে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন (হাব)। অবশ্য অবশিষ্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বিমান কর্তৃপক্ষ। ভিসা জটিলতা, উড়োজাহাজ সংকটসহ নানা কারণে প্রতি বছরই হজ ফ্লাইট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় হজযাত্রীদের। গত বছরে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বিমান দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নিলেও লিজের উড়োজাহাজ পেতে দেরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। তখন বিমানের বহরে ১৩টি উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে দুটি কমে আছে ১১টি। এরই প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠুভাবে হজ ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে এবার চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। তবে দুটি উড়োজাহাজ লিজের চুক্তি হলেও বাকি দুটি পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। গত হজ মৌসুমে নিজস্ব উড়োজাহাজের পাশাপাশি লিজের উড়োজাহাজেও হজযাত্রী পরিবহন করে বিমান। নিজস্ব উড়োজাহাজে হজ ফ্লাইট চালাতে গিয়ে তখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট শিডিউল কাটছাঁট করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে অগ্রিম টিকিট কিনে রাখা যাত্রীদের ওপর। এবার এ ধরনের সংকট এড়াতে আগে থেকেই সুপরিসর চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিমান। ৩০০ আসনের ওইসব উড়োজাহাজের বৈমানিক, কেবিন ক্রুসহ (ওয়েট লিজ) লিজের সিদ্ধান্ত হয়। গত ১৭ জানুয়ারি দরপত্র বাক্স খুলে মোট ছয়টি প্রস্তাবনা পায় বিমান। সব বিষয় পর্যালোচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকার এম-এস এসিএমআই-২৪ থেকে চারটি উড়োজাহাজের লিজ অনুমোদন করে কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে চারটির পরিবর্তে দুটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে সম্মত হয় তারা। অন্যদিকে বাকি দুটি উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা ফ্রান্সের এম-এস এলিকোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমান। এলিকো থেকে জানানো হয়, তাদের প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ এরই মধ্যে ভাড়া হয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে সময় স্বল্পতার অজুহাতে মালয়েশিয়াভিত্তিক এম-এস ফ্লাই গ্লোবাল থেকে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিমান। এরই মধ্যে ৪০৬ আসন বিশিষ্ট দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ ওয়েট লিজে সংগ্রহের জন্য ফ্লাই গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তিও করেছে বিমান।

দরপত্র ছাড়া উড়োজাহাজ লিজ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুম এলেই এক রকম ইচ্ছা করেই উড়োজাহাজের সংকট তৈরি করা হয় বিমানে। এবারও দরপত্রের মাধ্যমে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রেও এমন অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। যাতে শেষ পর্যন্ত সংকট ঠেকাতে দরপত্র ছাড়াই উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিকল্প থাকে না। কারণ, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন। এর অর্ধেক পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি অর্ধেক পরিবহন করবে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনস। জানতে চাইলে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, আগামী হজ মৌসুমে সুষ্ঠুভাবে হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, চলতি বছর বিমান প্রায় ৬৫ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করবে। বহরের নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী পরিবহন করতে গেলে নিয়মিত ফ্লাইটে কাটছাঁট করতে হয়। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার জন্য বিমানে কমিটি রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উড়োজাহাজগুলো লিজ নেওয়া সম্ভব হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানের উড়োজাহাজ সংকট নিয়ে হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তাসলিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হজের এয়ারক্রাফটের অপ্রতুলতা একটি বড় কারণ। চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যর্থ হলে অন্যান্য কোম্পানিকেও সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। চলতি বছর আসন খালি না থাকা নিশ্চিত করতে অগ্রিম ভাড়া নেওয়াসহ বুকিং বাতিল করলে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

এই বিভাগের আরও খবর