শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৯

মোড়ের রাজা ‘টেন্ডল’

ট্রাফিক বিভাগের হালচাল ২

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

মোড়ের রাজা ‘টেন্ডল’

নগরীর সল্টগোলা মোড়। বেলা ১টা। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা পরিবহন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। কিন্তু তাদের চেয়ে ব্যস্ত সাদা পোশাকধারী রাজু নামে এক ব্যক্তি। তিনি কখনো কাউকে হুমকি দিচ্ছেন, কাউকে ট্রাফিক পুলিশের দেওয়া মামলার হাত থেকে রক্ষা করছেন। এই ব্যক্তিই যেন ওই এলাকার ‘রাজা’। পরিবহন শ্রমিকরা নয়, পুলিশের সদস্যরা ওঠবস করছেন তার কথায়। সাধারণ চালকদের কাছে তার নাম ‘যম’ হলেও ট্রাফিক সদস্যরা তাকে ডাকেন ‘টেন্ডল’ নামে। শুধু আগ্রাবাদ নয়, নগরীর প্রায় প্রতিটি মোড়েই রয়েছে এ রকম একেকজন টেন্ডল।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশিদ হাজারী বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করার জন্য আনঅফিসিয়ালি কিছু কমিউনিটি পুলিশের সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের টেন্ডল বলা হয় কি না তা জানি না। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (বন্দর) আকরামুল হোসাইন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রথা ট্রাফিক বিভাগে চালু নেই। তবে আমাদের অগোচরে এ ধরনের কোনো প্রথা চালু রয়েছে কি না তা জেনে ব্যবস্থা নেব।’

জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকার ট্রাফিক পয়েন্টে পরিবহন থেকে ট্রাফিক সদস্যরা টাকা উত্তোলন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে টাকা নেওয়ার ধরন পাল্টেছে। এখন টাকা উত্তোলন করতে দেওয়া হয়েছে কিছু ব্যক্তিকে, যাদের ট্রাফিকরা ‘টেন্ডল’ নামে ডাকেন। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে শতাধিক টেন্ডল রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের। তারাই মূলত ট্রাফিক পুলিশের হয়ে চাঁদা উত্তোলন থেকে শুরু করে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। প্রতি সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের পয়েন্ট পরিবর্তন হলেও মাসের পর মাস একই স্থানে অবস্থান করেন কথিত এসব টেন্ডল। তবে বেশির ভাগ টেন্ডলই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্পটভিত্তিক নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশের টেন্ডল নিয়োগ দেওয়ার জন্য রয়েছে কথিত ‘টেন্ডল সেল’। এটি তত্ত্বাবধান করেন মাস্তান মামা নামে পুলিশের বহুল পরিচিত এক ব্যক্তি। আর টেন্ডল সেল পরিচালনার মূল দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক বিভাগের দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ‘দায়িত্ব’ পালন করা টেন্ডলদের মধ্যে রয়েছে রহিম, কামাল, জসিম, রিপন, আমির, আনোয়ার, সোহেল, আফসার, আকতার, শাহেদ, সাহাবুদ্দিন, রফিক, হৃদয়, সুমন ওরফে লম্বা সুমন, জহির, জাবেদ ও দুলালসহ কমপক্ষে ১০০ জন। অভিযোগের বিষয়ে বন্দর জোনের টিআই (প্রসিকিউশন) আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।’ একই ভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তর জোনের সার্জেন্ট (প্রসিকিউশন) আনোয়ারুল হক।

পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আগে ট্রাফিক কনস্টেবল পাঠিয়ে চাঁদা নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সাদা পোশাকধারী কিছু লোক মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করেন। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় আমরা ট্রাফিকের ডিসির কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো যারা অভিযোগ দেয় তাদের গাড়ি ধরে হয়রানি করা হয়।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর