Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১১

বর্জ্য বদলে পরিণত হচ্ছে সম্পদে

জিন্নাতুন নূর

বর্জ্য বদলে পরিণত হচ্ছে সম্পদে

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজারের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার ব্যতিক্রমী এক প্রকল্প নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিবেশ অধিদফতর। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে দৈনিক ৫০ টন সার উৎপাদিত হচ্ছে। আর এই সার বাসাবাড়ির ছাদের সবজিবাগান ও জমির ফসলে ব্যবহূত হচ্ছে। ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের জন্য ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মাতুয়াইলে সার কারখানা স্থাপনের কাজ আগামী মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর উত্তর সিটি করপোরেশন আমিনবাজার এলাকায় সার কারখানা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদফতরকে প্রথম দিকে জানালেও এ ব্যাপারে তাদের চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের প্রকল্প পরিচালক এবং পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক (আইন) আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইতিমধ্যে দেশের চারটি কারখানায় বর্জ্য থেকে সার উৎপাদিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন পেলে দেশের ৬৪টি জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এ ছাড়া ফেনীতে সার কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে। আর কিশোরগঞ্জের কারখানা নির্মাণের কাজও শিগগিরই শুরু হবে। এখান থেকে উৎপাদিত সার দেশের কৃষকসহ শৌখিন বাগানের মালিকরা ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন এসব কারখানা থেকে গড়ে দৈনিক ৫০ টন সার উৎপাদিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য উৎস থেকে দেশে প্রতিদিন ২০ হাজার মেট্রিক টন আবর্জনা তৈরি হয়। আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ মোট বর্জ্যের ৫০ শতাংশ সংগ্রহ করতে পারে। বাকি বর্জ্য নিচু জায়গা, ড্রেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র পড়ে থাকে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ বর্জ্য পচে বায়ু ও পানিদূষণ হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ায় বর্জ্য অপসারণে দক্ষ নয়। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে কঠিন বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে বিবেচনা করে উন্মুক্ত ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে রাখা হয়, যেখানে বর্জ্য পচে প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। এ জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা প্রচলনের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ২০১০ সালে ‘ন্যাশনাল থ্রি আর (রিডিউস, রিইউজ অ্যান্ড রিসাইকেল) স্ট্র্যাটেজি ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ প্রণয়ন করে। এ প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মেয়াদ ২০১৬ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে এই প্রকল্পটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হবে। এটি সফল হলে পরিকল্পনা মোতাবেক পরে সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়বে। পরিবেশ অধিদফতরের এই থ্রি আর প্রজেক্টের অধীনে চারটি বর্জ্য স্থানান্তর স্টেশন স্থাপন করা হবে, যার দুটি স্থাপিত হবে নগরীর উত্তর সিটি করপোরেশন, দুটি স্থাপিত হবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।

এর বাইরে পরিবেশ অধিদফতর দেশের ৬৪টি জেলায় বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের লক্ষ্যে আরও একটি প্রকল্প ‘ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম)’ বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলায় সার কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিবেদন মতে, পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শহরগুলোর জৈব আবর্জনা ব্যবহার করে ‘প্রোগ্রামাটিক সিডিএম’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা। সার্টিফায়েড অ্যামিশন রিডাকশন ও ভেরিফাইড অ্যামিশন রিডাকশন বিক্রির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জৈব সার ব্যবহার করে মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি করার বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২-২৫ টন ময়লা এবং ময়মনসিংহ পৌরসভার ৮ থেকে ১০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি কম্পোস্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্ল্যান্ট দুটি বর্তমানে শহর দুটির জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে যাচ্ছে। এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশন ও কক্সবাজার পৌরসভায় যথাক্রমে ১৬-২০ টন ও ১২-১৪ টন উৎপাদন ক্ষমতার দুটি কম্পোস্ট প্ল্যান্ট থেকেও সার উৎপাদন হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে উেস বর্জ্য পৃথককরণের লক্ষ্যে বাসাবাড়িতে বিতরণের জন্য মোট ১০ হাজার ১৭৪টি সবুজ (জৈব বর্জ্যের জন্য) ও হলুদ (অজৈব বর্জ্যের জন্য) বিন সরবরাহ করা হয়েছে। আর সংগৃহীত বর্জ্য পরিবহনের জন্য একটি করে বিশেষ ট্রাক সরবরাহ করা হয়েছে। ট্রাকগুলোতে জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদাভাবে ও আবদ্ধ অবস্থায় পরিবহনের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য পৃথককরণে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কম্পোস্ট প্ল্যান্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ অধিদফতর প্রোগ্রামেটিক সিডিএম প্রকল্পের প্রথম পর্বের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পর্ব গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় পর্বের আওতায় ফেনী ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় দুটি কম্পোস্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য