Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৬

বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ৬০৪ কোটি টাকা

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ৬০৪ কোটি টাকা

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০৪ কোটি টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। এ বন্দরের রাজস্ব ঘাটতি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। ভারতের পেট্রাপোলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বন্দর-কাস্টমসের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে সপ্তাহে সাত দিনে ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা। এতে যেমন রাজস্ব আয়ে ভাটা পড়েছে, তেমনি লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরে গতিশীলতা বাড়াতে এখানকার বাণিজ্যে জড়িত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরস্পরের সমন্বয়, বৈধ সুবিধা দেওয়া ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তারা সমন্বয় করে কাজ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে    বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ সময় ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে আদায় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত বছর বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল ১৫২ দিন। এর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাস্টমসের সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বিজিবির দ্বন্দ্ব, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলন আর বন্দরে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ২৬ দিন এবং সরকারি ছুটিতে বাণিজ্য বন্ধ ছিল ১২৬ দিন। এতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় সরকারের ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আর ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সব বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর রাজস্ব পরিশোধের নিয়ম এক হতে হবে। বন্দরের ধারণক্ষমতা ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ বন্দর থেকে বর্তমানে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে তখন তার দ্বিগুণ আয় হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ার কিছু কারণ আমরা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছি। আগামীতে সেসব বিষয়ের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য থাকবে।’ তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস বলেন,    ‘আমি বন্দরে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আগে অবশ্য কিছুটা অব্যবস্থাপনা ছিল। আমি যোগদানের পর বন্দরে অবৈধ প্রবেশ নিষেধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। বাণিজ্যে গতিশীলতা ফেরাতে ইতিমধ্যে স্বল্প পরিসরে অটোমেশন প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আরও কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া আরও কিছু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে ওপরমহলকে অবহিত করা হয়েছে। এসব কাজ সমাপ্ত হলে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্যে আরও গতিশিলতা বাড়বে।’


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর