Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৮

সন্ধ্যা হতেই ক্রেতা দর্শকের ঢল চট্টগ্রাম বইমেলায়

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

সন্ধ্যা হতেই ক্রেতা দর্শকের ঢল চট্টগ্রাম বইমেলায়

৮০ হাজার বর্গফুট আয়তন। নেই ধুলাবালির উৎপাত। সুশৃঙ্খল পরিবেশ। পরিপাটি বইয়ের স্টলগুলো। প্রতিটিতে থরে থরে সাজানো বই। প্রকাশকদের বই বাছাইয়েও রয়েছে বৈচিত্র্য। তথ্যসমৃদ্ধ বই আকৃষ্ট করছে বোদ্ধা পাঠকদের। বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপ। ফলে পড়ন্ত বিকালে সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরব হয়ে ওঠে চট্টগ্রামে প্রাণের বইমেলা। সন্ধ্যা হতেই ঢল নামে পাঠক-দর্শকের।      

চট্টগ্রাম নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে প্রথমবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রামের সৃজনশীল প্রকাশকদের অংশগ্রহণে হচ্ছে সম্মিলিত বইমেলা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আয়োজন এবং চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ, চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ ও সাহিত্যিক-শিল্প সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব সুমন বড়–য়া বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই মেলায় পাঠক-দর্শকের অভূতপূর্ব সাড়া দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই দর্শকের সরব উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। পরিপাটি ও শৃঙ্খলিত পরিবেশে মেলা থেকে পাঠকরা পছন্দের বই কিনতে পারছেন। ফলে প্রথমবারের আয়োজনে আমরা সফলই বলতে পারি।’ মেলা আয়োজক পরিষদের সমন্বয়কারী আশেকে রসুল টিপু বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ৬০টি বই মেলায় এসেছে।

তাছাড়া বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপ। মেলা আরও আকর্ষণীয় করতে আগামীবার বাংলা একাডেমি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।’   

গতকাল বিকালে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি স্টলের সামনে ভিড় করছেন বইপ্রেমীরা। পাঠকের শ্রেণিতে কেবল বয়স্করা নন, শিশু-কিশোররাও রয়েছে। তবে শিশু-কিশোরদের প্রথম পছন্দ ছড়া ও কার্টুনের বই। খড়িমাটি স্টলের সামনে ছড়াকার ডা. ভাগ্যধন বড়–য়া বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন একটি বইমেলা হচ্ছে। আশা করছি আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হবে।’  

জানা যায়, এবারের বইমেলায় ১১০টি স্টলে প্রকাশকরা অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার ৬০ ও চট্টগ্রামের ৫০টি। দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সেলফি জোনে কিশোর, তরুণ-তরুণীরা ছবি তুলেছেন। রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা। সুলভ মূল্যের খাবারের ব্যবস্থাসহ রয়েছে হেলথ ক্যাম্প। এখানে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়, ডায়াবেটিক ও প্রেসার মাপার ব্যবস্থা রয়েছে। শৃঙ্খলার জন্য নিরাপত্তা ক্যাম্প। পাঠক-দর্শকদের মননশীলতা তৈরিতে মেলার প্রবেশপথেই রাখা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, প্রমথ চৌধুরী ও বেগম সুফিয়া কামালসহ বিশিষ্টজনদের অমিয় বাণীসহ ছবি। সব মিলে বইমেলা প্রাঙ্গণ রূপ নিয়েছে লেখক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও দর্শকদের মিলনমেলায়। 


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর