Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:১৮

বিভক্ত আওয়ামী লীগ, হতাশ কর্মীরা

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

বিভক্ত আওয়ামী লীগ, হতাশ কর্মীরা

রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এই জয়ের পরেও দল ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। কার্যত নির্ভার আওয়ামী লীগ এখানে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পক্ষ মেয়র-এমপির পক্ষে। অন্যরা নিজেদের বঞ্চিত বলে দূরে সরে আছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় তাদের ক্ষমতায়িত করলেও কমেছে সাংগঠনিক শক্তি। কারণ এমপিরা বিজয়ী হওয়ার পর তাদের বিরোধিতাকারীদের এখনো দূরে সরিয়ে রেখেছেন। যার প্রভাব দেখা গেছে উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষেত্রেও। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে দুই ভাগ। এখানে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে রাজশাহী-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরোধিতা করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে এখনো গোলাম রাব্বানীকে দলের কর্মকা- থেকে বিরত রেখেছেন এমপি। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের সভায় তাকে সভাপতিত্ব করতে দেননি এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ। গোদাগাড়ীতে উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে এমপির বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান। 

রাজশাহী সদরে নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের মধ্যে চলছে শীতল সম্পর্ক। ডাবলু সরকারকে সাংগঠনিক কর্মকা- থেকে কৌশলে দূরে রেখেছেন লিটন। অবশ্য ডাবলু সরকার এমন শীতল সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘নগর কমিটিতে কোনো বিরোধ নেই। ক্ষমতায় যারা থাকেন, তাদের কাছে নেতা-কর্মীদের ভিড় একটু বেশি থাকে।’ রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর নিয়ে রাজশাহী-৩ আসন। এখানে এমপি লীগ আর আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত কর্মীরা। একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনোনয়নের সময় যারা বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের তিনি এখন দূরে ঠেলে রেখেছেন। ফলে দলের ত্যাগী কর্মীরা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু জানান, এমপির দায়িত্ব কর্মীদের একত্রিত করা। কিন্তু পবা মোহনপুরে এখনো দলের কর্মীরা বিভক্ত। বাগমারায় এমপি বিরোধীরা এখনো কোণঠাসা। এবারের উপজেলা নির্বাচনেও মনোনয়ন পাননি এমপি বিরোধী হিসেবে পরিচিত বর্তমান চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি এনামুল হক জানান, তিনি দলকে সংগঠিত করতে সব সময় কাজ করেন। কয়েকজন নেতা সংগঠিত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। এ কারণে দলের কর্মীরাই তাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৫ আসন। নানা বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে ওই আসনে মনোনয়ন পাননি গতবারের এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা। তবে মনোনয়ন পেয়েই নিজের বলয় গড়ে তুলেছেন বর্তমান এমপি ডা. মনসুর রহমান। পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি দারা। কিন্তু তাকে বাদ দিয়েই সভা করে কেন্দ্রের কাছে প্রার্থী তালিকা পাঠান ডা. মনসুর রহমান।

চারঘাট ও বাঘা উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৬ আসন। এ আসনটিতে প্রকাশ্যে বিরোধ থাকলেও গত সংসদ নির্বাচনে তা দূর হয়েছে। বাঘা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন শাহরিয়ার আলমের বিরোধী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে এবার লাভলুর পক্ষেই ছিলেন শাহরিয়ার আলম। তবে দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চারঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন শাহরিয়ার আলমের ঘনিষ্ঠ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ক্ষমতায় থাকলে দলে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে মনোমালিন্য থাকে। তবে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ সব সময়ই শক্তিশালী। যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা মাত্র।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর