শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩০

রাজধানীতে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ

প্রতি মিনিটে ভর্তি হচ্ছেন একজন

জিন্নাতুন নূর

রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশ এলাকায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় মহাখালীর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়ারিয়াল ডিজিজ রিসার্চ বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এ প্রতি মিনিটে একজন করে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই সব বয়সী রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। আক্রান্তের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কই বেশি। তবে শিশুরাও আছে। রাজধানীর অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসার জন্য স্থান না পেয়ে এবং ভালো চিকিৎসার আশায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীই এখন বিশেষায়িত এ হাসপাতালে আসছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিডিডিআরবির তিনটি ওয়ার্ড ছাড়াও বর্তমানে বাইরে বিশাল তাঁবুতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেখানে ৮০০-এর বেশি রোগী ভর্তি হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, রাত পর্যন্ত এ সংখ্যা ৯০০-এ গিয়ে ঠেকবে। গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিন এখানে ৮০০ থেকে ৮৫০ জন রোগী ভর্তি হন। গতকাল সরেজমিন আইসিডিডিআরবিতে গিয়ে দেখা গেছে, সিএনজি ও রিকশায় করে স্বজনরা রোগীদের নিয়ে আসছেন। হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডের প্রতিটি আসনই ডায়রিয়া রোগীতে পূর্ণ।

জরুরি বিভাগের বাইরেও বিশাল তাঁবু টাঙিয়ে রোগীদের ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তাররা রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

আইসিডিডিআরবির নার্সরা জানান, প্রথমে রোগীদের আইভি স্যালাইন দিয়ে আউটডোরে চার ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিস্থিতি ভালো হলে ছেড়ে দেওয়া হয়। বেশি খারাপ হলে বিশেষ করে ডায়রিয়ার সঙ্গে যদি জ্বর, কিডনি ও ডায়াবেটিস সমস্যা থাকে তাহলে তাকে হাসপাতালের লঙ্গার স্টে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বেশি সংকটাপন্ন রোগীদের পানিশূন্যতা থাকে এবং প্রস্রাব হয় না, জিব শুকিয়ে যায়, রগে টান লাগে। এ ছাড়া শিশুদের হাসপাতালের শর্ট স্টে ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। প্রতি রোগীর সঙ্গে একজন করে স্বজন থাকছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণখানের নুরনাহার (২২) গত রবিবার থেকে পাতলা পায়খানা, বমি ও রগে টান অনুভব করলে গতকাল সকালে বড়বোন মজিদা তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করান। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নুরনাহারকে চার ব্যাগ ওরাল স্যালাইন দেওয়া হয়। নুরনাহার এতই দুর্বল হয়ে পড়েন যে হাসপাতালের বিছানায় উঠে বসার মতোও শক্তি ছিল না। এ ছাড়া বাড্ডা থেকে বিকালে ১২ বছরের তৌফিককে নিয়ে আইসিডিডিআরবিতে আসেন তার মা হাসিনা খাতুন। তিনি জানান, গতকাল সকাল থেকেই ছেলে টানা কয়েকবার পাতলা পায়খানা করে খুব দুর্বল হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, মূলত বছরের মার্চ, এপ্রিল, জুন ও জুলাইয়ে আবহাওয়া গরম থাকায় পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পায়। এ সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। গত বছর এ সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার রোগী ভর্তি হয়েছিলেন আইসিডিডিআরবিতে। কিন্তু এ বছর প্রথম থেকেই রোগীর চাপ বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এবার ডায়রিয়া পরিস্থিতি গত বছরের থেকেও খারাপ হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক (চিফ ফিজিশিয়ান ও হেড হসপিটাল) ডা. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ মাসে গরমের কারণে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশাখী উৎসবে পান্তাসহ বিভিন্ন খাদ্য গ্রহণের ফলে গতকাল সকাল থেকে রোগী ভর্তির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ঢাকায় ওয়াসার সরবরাহকৃত দূষিত পানি পান করে এবং বাইরের বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন আচার ও জুস খেয়ে মানুষ ডায়রিয়রায় আক্রান্ত হচ্ছে।’ তিনি জানান, এপ্রিলজুড়ে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ থাকতে পারে। রোজার আগ পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর