Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মে, ২০১৯ ২৩:৫৩

খুলনায় পানির সংকট ভয়াবহ

পানিতে দুর্গন্ধ ♦ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত হয়নি ♦ আশ্বাসে চলছে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

খুলনায় পানির সংকট ভয়াবহ

খুলনা মহানগরীতে সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন স্থানে দিনরাত পাম্প চালিয়েও ভূগর্ভস্থ পানি উঠছে না। অনেক এলাকায় ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পানির এমন সংকটে নগরবাসীর অসন্তোষ বাড়ছে। জানা যায়, মহানগরীতে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২০১৩ সালে আড়াই হাজার কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প হাতে নেয় ওয়াসা। প্রকল্পের আওতায় মধুমতি নদী থেকে পাইপলাইনে পানি এনে পরিশোধন (ট্রিটমেন্ট) করে তা শহরে সরবরাহ করা হবে। ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।  এদিকে, খুলনা মহানগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে ১১ কোটি লিটার। চাহিদার ৪০ ভাগ পানি ওয়াসা সরবরাহ করে। কিন্তু পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় তাও সরবরাহ করতে পারছে না। ওয়াসার ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ জানান, ওয়াসার পুরনো লাইনের সংযোগ অনেক স্থানে নেই। ব্যক্তিগত নলকূপগুলোতেও পানি পাওয়া যায় না। তবে ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ জুন মাসে শেষ হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ রয়েছে নগরবাসীর। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, ওয়াসার কাজে সড়কে খোঁড়াখুঁড়িতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত হয়নি। ওয়াসার পানি সরবরাহের প্রকল্পটি চলছে আশ্বাস দিয়েই। ২০১৭ সাল থেকে ওয়াসা নতুন পাইপলাইনে পানি দেওয়ার কথা বললেও অনেক গ্রাহকের বাড়িতে সংযোগও পর্যন্ত দিতে পারেনি। এদিকে, সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক গতকাল ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ওয়াসার কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দ্রুত এসব সড়ক মেরামতের নির্দেশনা দেন। ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এম ডি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, কয়েকটি এলাকায় গ্রাহকরা      নতুন করে আবেদন করায় তাদের পাইপলাইনের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে মধুমতি নদী থেকে রূপসা শোধনাগারে পানি আনা হয়েছে। এ শোধনাগার থেকে রূপসা নদীর তলদেশ হয়ে শহরের ৭টি রিজার্ভারে পানি আনা হবে। বর্তমানে পানি সরবরাহ মিটার বসানো হচ্ছে। আগামী মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। ওয়াসার পুরনো লাইন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘ড্রেন ক্রস’ করে যাওয়ায় ‘স্কেভেটর’ দিয়ে ময়লা পরিস্কারের সময় অসচেতনতায় তা ফেটে যায়। এতে পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা আসতে পারে। নতুন পাইপলাইনে পানি সরবরাহ করা হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর