Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মে, ২০১৯ ২৩:২৯

সিলেটে অভিযানেও বেপরোয়া ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে অভিযানেও বেপরোয়া ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা

ইফতারে হরেক রকম আইটেমের মধ্যে রোজাদাররা সবার আগে খোঁজেন পানি আর খেজুর। সেই খেজুরকে রেহাই দিচ্ছেন না ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা। মেয়াদোত্তীর্ণ, পচে-গলে যাওয়া খেজুরকে নতুন প্যাকেটে ঢুকিয়ে নতুন মেয়াদ দিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন তারা। সিলেটে র‌্যাব আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের যৌথ অভিযানে এমন চিত্র বেরিয়ে আসায় আঁতকে ওঠেন সাধারণ মানুষ। শুধু খেজুর নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যেই ভেজাল করছেন সিলেটের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ভেজাল থেকে মুক্ত নয় সুপার শপগুলোও। রমজান শুরুর আগে সিলেটে পণ্যে ভেজাল না মেশাতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় প্রশাসন। কিন্তু সে হুঁশিয়ারিতে কর্ণপাত করেননি ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা। রমজান শুরু হতে না হতেই তাই একের পর এক ভেজাল চিত্র ধরা পড়ছে সংশ্লিষ্টদের অভিযানে। ভেজাল ঠেকাতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের আটটি টিম। জানা গেছে, সোমবার সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে অ্যাগোরা সুপার শপে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। ওই সময় ভোজ্য তেলে মেয়াদের সিল না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিন সুপার শপ রিফাত অ্যান্ড কোংকে ভেজালের কারণে ৮ হাজার  টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিন দুপুরে নগরীর ভার্থখলা ও কদমতলী এলাকায় মুরগি ও মাংস বিক্রির পাঁচটি দোকানকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের ভেজালবিরোধী টিম। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ফলবাজারে অভিযান চালায় র‌্যাব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টিম। অভিযানে আঁতকে ওঠেন সংশ্লিষ্টরা। মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পচে-গলে যাওয়া খেজুর প্যাকেট করে বিক্রি করছিল বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, আনিসা ফ্রুট এজেন্সি ও হাজী হানিফ এন্টারপ্রাইজ নামক তিনটি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছ থেকে সাড়ে ১২ টন ভেজাল খেজুর জব্দ করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল বিকালে নগরীর বাবনা পয়েন্টে সুপার শপ স্বাদে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ শ্যাম্পু, চানাচুর ও কোমল পানীয় এবং মূল্য ছাড়া খেজুরের প্যাকেট থাকায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ছাড়া একই এলাকার সুপার শপ রাজমহলে মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয় ও দই বিক্রির দায়ে ৫ হাজার টাকা এবং অভিজাত মিষ্টির দোকান মধুবনে নোংরা জায়গায় মিষ্টি রাখায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিলেটে প্রতিদিন ভেজালের ভয়াবহ চিত্র দেখে সাধারণ মানুষ আঁতকে উঠছেন। ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শুধু জরিমানাই নয়, তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদ  প্রদানের দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে ভেজাল ঠেকাতে সিলেট জেলা প্রশাসন পাঁচটি টিম গঠন করেছে। সিলেট সিটি করপোরেশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং র‌্যাব-৯-এর পৃথক টিমও অভিযান চালাচ্ছে নগরীতে। আছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পৃথক টিমও। সিটি করপোরেশন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বাজার মনিটরিং টিম গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা আক্তার বলেন, ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় জরিমানার অঙ্ক কম হলেও পরবর্তী সময়ে ভেজাল পাওয়া গেলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদ  প্রদান করা হবে।

র‌্যাব-৯-এর এএসপি সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, পণ্যে ভেজাল, বেশি দামে পণ্য বিক্রি কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি যারা করেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর