Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মে, ২০১৯ ০১:৩৫

ঋণের টাকায় কেনা চিনি কেন গুদামে

সংসদীয় কমিটির প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঋণের টাকায় কেনা চিনি কেন গুদামে

দেশি চিনি অবিক্রীত রেখে কার স্বার্থে ব্যাংক ঋণের টাকায় বিদেশি চিনি কেনা হয়েছিল? বিদেশ থেকে কেনা সেই চিনি কেন গুদামে ফেলে রাখা হয়েছে, জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় এবং চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের পক্ষে থেকে এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সংসদ ভবনে গতকাল অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ প্রতিবেদন চাওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ। কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. জিল্লুল হাকিম, মুহিবুর রহমান মানিক এবং বিশেষ আমন্ত্রণে মো. মজাহারুল হক প্রধান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন গত বছর (২০১৬-১৭ অর্থবছরে) অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই চিনি কিনেছিল। কিন্তু ঋণ নিয়ে কেন চিনি কেনা হয়েছিল? সেই চিনি এখনো কেন গুদামে? দেশের মিলের উৎপাদিত চিনি বিক্রি হয় না অথচ দেশের বাইরে থেকে চিনি কিনে গুদামে ফেলে রাখা হয়েছে কার স্বার্থে? এসব বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ।

বৈঠকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছর পর্যন্ত আখচাষিরা করপোরেশনের কাছে ১১৯ কোটি টাকা পাবেন। এর বাইরে বীজ সরবরাহকারীরা পাবেন প্রায় ৩১ কোটি টাকা। কমিটি আখচাষিদের বকেয়া টাকা ঈদের আগেই পরিশোধ করার জন্য চিনি শিল্প করপোরেশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে চিনির মিলগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের সুপারিশ করা হয়।

সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের অধীনস্থ কেরু অ্যান্ড কোং মিল এবং রেনউইক যজ্ঞেশ^র অ্যান্ড কোং মিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লাভ করছে যথাক্রমে ৫৫০.৭২ লাখ টাকা এবং ১০৬.১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া  বৈঠকে জানানো হয়, চলতি বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের বাণিজিক অডিট আপত্তি  হয়েছে ১ হাজার ৬২৪টি, সাধরণ অডিট আপত্তির উঠেছে ৬৫২টি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর