Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০১৯ ২৩:১৫

উপকরণ সরবরাহ নিয়ে জটিলতা

রমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রমেক হাসপাতালে  ডায়ালাইসিস বন্ধ

উপকরণ সরবরাহ নিয়ে জটিলতায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের কিডনি বিভাগে প্রতিদিনই ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে ডায়ালাইসিস বিভাগ। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় সেবা নিতে আসা কিডনি রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থবছর শুরুর আগে ও পরে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তবে তা খুব মারাত্মক কিছু নয়। মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী ইউনিয়নের বড় মির্জাপুর গ্রামের কিডনি রোগে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা দিলদার হোসেন বলেন, দেড় বছর ধরে            এ হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করি। কিন্তু গতকাল সকালে হাসপাতালে যাওয়ার পর দেখি ডায়ালাইসিস বন্ধ। এ কারণে প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বসে থাকতে হয়। অন্যদিন সকাল ৯টার মধ্যে ডায়ালাইসিস শুরু হয়। ওয়ার্ডে কর্মরতদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ডায়ালাইজার, ব্লাড লাইন ও ফ্লুইডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় ডায়ালাইসিস বন্ধ আছে। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালের পরিচালকের শরণাপন্ন হই।

পীরগঞ্জ উপজেলার ধাপেরহাট এলাকার লালদীঘি গ্রামের বাসিন্দা কিডনি রোগী শাহ আলম বলেন, আমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস প্যাকেজে এ হাসপাতালে সেবা নিচ্ছি। কিন্তু গতকাল সকালে গিয়ে দেখি উপকরণের অভাবে ডায়ালাইসিস বন্ধ রেখেছেন কিডনি বিভাগের টেকনিশিয়ানরা। একই অভিযোগ করেন লালমনিরহাট থেকে সেবা নিতে আসা কিডনি রোগী হাবিবা আক্তারের স্বজন নুর ইসলাম।

রমেকের কিডনি বিভাগের টেকনিশিয়ান মো. মাসুদ রানা উপকরণের অভাবে প্রতিদিনই প্রায় ২ ঘণ্টা ডায়ালাইসিস বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি এর বেশি কিছু বলতে অপরাগতা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ হাসপাতালে মোট ২৪টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে সচল আছে ১৮টি। বর্তমানে প্যাকেজসহ নতুন মিলে প্রতিদিন দুই শিফটে ৫০ থেকে ৭০ জন রোগীর ডায়ালাইসিস করা হয়। প্রতিদিন একজন রোগীর জন্য দুই ধরনের ১০ লিটার করে মোট ২০ লিটার ফ্লুইড প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া অন্য উপকরণ তো আছেই। এর মধ্যে রাসায়নিক উপকরণ সরবরাহ করে লেকজিকোন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তবে দুই বছর ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা বকেয়া পড়েছে। এ টাকা পরিশোধ না করায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেকজিকোন লিমিটেডের ম্যানেজার শাকিল চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের গতকাল পর্যন্ত কেমিক্যাল গ্রুপের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো টাকা পরিশোধ করেনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পরিচালককে বলা হলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

রমেক হাসপাতালের উপকরণ যাচাই-বাছাইয়ের সার্ভে কমিটির চেয়ারম্যান ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, কোনো ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়নি। উপকরণ সার্ভের কাজ চলছে। উপকরণ লিস্টে স্বাক্ষর না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি আমার নয়। স্বাক্ষর দেবেন হাসপাতালের পরিচালক।

এ ব্যাপারে রমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, অর্থবছর শুরুর আগে ও পরে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি টাকা অবশ্যই তারা পাবেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আবদুল গণি বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। কিছুদিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর