প্রকাশ : সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০১৯ ২৩:৫৯

বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী

------- বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী বলে উল্লেখ করেছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক। তবে তিনি বাজেটে পোশাক খাত নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন থেকে যায় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, অর্থনীতিবিদরা পোশাক খাতকে পরিপক্ব বলছেন, কিন্তু এই খাত এখন দুর্বল শিশুর অবস্থায় আছে। তিনি উল্লেখ করেন, এবার ঈদে অনেক কারখানা মালিক নিজেদের কারখানার মেশিন বিক্রি করেও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছেন। গতকাল রাজধানীর এক হোটেলে ‘বাজেট ২০১৯-২০ : পোশাক খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ। সেখানে সংগঠনটির নেতারা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে বাজেট নিয়ে তাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। বাজেটে পোশাক খাতের মালিকদের প্রত্যাশা পূরণ হওয়া সম্পর্কে বিজিএমইএ নেতারা এ সময় জানান, এবারের বাজেটে পোশাক রপ্তানি মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভর্তুকি প্রদান করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ১৪ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। বাজেটে পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসেবে বাজেটে অতিরিক্ত দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণোদনার হার ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিল। তারা জানান, বাজেটে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিলের ওপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন করে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বিজিএমইএ থেকে কারখানাকে নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করতে নিরাপত্তা পণ্যগুলো আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে শুল্ককর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হলেও এটি গৃহীত হয়নি। এ ছাড়া সব পোশাক কারখানার জন্য ব্যাংক সুদের হার এক অংকের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং অনতিবিলম্বে তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল বিজিএমইএ। এক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অংকের কোঠায় আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। নেতারা উল্লেখ করেন, ছোট ও মাঝারি যেসব কারখানা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারছে না এবং বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে, সেসব কারখানার নিরাপদ এক্সিটের জন্য ব্যাংকরাপ্টি ওয়ার্কআপ রিজাইম প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি কার্যকর ইনসলভেন্সি ও ব্যাংকরাপ্টি আইন করে তার মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের এক্সিটের ব্যবস্থা করার ঘোষণা এসেছে।

 তারা জানান, পোশাক খাতকে দক্ষ করতে ভারত ও পাকিস্তানের মতো স্কিম গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না এলেও তরুণ উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক স্টার্ট আপের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল ও গবেষণা এবং উদ্ভাবন খাতে অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পোশাক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বিশেষ করে বাসস্থান, যাতায়াত ও চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ প্রদান করার সুপারিশ করা হয়েছে। এবার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে এই খাতের আওতায় পোশাক শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আসেনি।

রুবানা হক বক্তৃতায় বলেন, পোশাক খাতকে নিয়ে মিথ্যাচারের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আমরা শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই। এখন ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচানো জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহ-সভাপতি এস এম মান্নান, সহ-সভাপতি এম এ রহিম, সহ-সভাপতি মো. মশিউল আজম প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর