শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ২৩:১৭

সিলেটের উন্নয়ন

মুখোমুখি চেম্বার-সিটি করপোরেশন

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

মুখোমুখি চেম্বার-সিটি করপোরেশন

বর্ষা মৌসুমে সিলেট নগরীর উন্নয়ন কাজ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। উন্নয়ন ও দুর্ভোগ নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি। ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের অসুবিধার কথা চিন্তা না করে উন্নয়নের নামে নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ি ও ভাঙা-গড়া চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট চেম্বারের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন। অন্যদিকে, মেয়রের দাবি- যারা সিলেটের ভালো চান না তারাই        উন্নয়নের বিরোধিতা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আর উন্নয়নের স্বার্থে নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি দুর্ভোগ লাঘবে চলমান কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জিন্দাবাজার-বারুতখানা সড়কের উভয় পাশে চলছে রাস্তা সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ। অন্যদিকে আম্বরখানা থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত রাস্তায় চলছে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার টানার কার্যক্রম। প্রায় চার মাস ধরে ব্যস্ততম এই সড়কগুলোতে কাজ চলছে। কাজের ধীরগতির কারণে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রাস্তার পাশের ব্যবসায়ীরা অন্যদিকে পথচারীদেরও পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ।

এ অবস্থায় সোমবার গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠায় সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ। বিবৃতিতে তিনি চলমান উন্নয়ন কর্মকা কে অপরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র হচ্ছে জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও জেলরোডসহ আশপাশের এলাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি এবং নির্মাণসামগ্রী রাখায় অর্ধেকের বেশি রাস্তা জনগণ ব্যবহার করতে পারছে না। এতে একদিকে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, অন্যদিকে ক্ষতির সম্মুখীন হন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ঠিকাদাররা তাদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করলেও নগর কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সিটি করপোরেশন দিন দিন স্বেচ্ছাচারী ও একক আধিপত্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর পরই সন্ধ্যায় পাল্টা বিবৃতি পাঠান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিবৃতিতে তিনি বর্ষা মৌসুমে উন্নয়ন কাজের জন্য কিছুটা দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় ছড়া-খাল উদ্ধার ও সংস্কার কাজ করতে পারায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে যানজটেরও অভিশাপমুক্ত হবে সিলেট নগরী। মেয়র বলেন, পর্যটকবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সিটি করপোরেশন নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ বলেন, ভবিষ্যত সুফলের জন্য নগরবাসীর কিছুটা দুর্ভোগ মেনে নেওয়া উচিত। তবে মান বজায় রেখে যাতে দ্রুত কাজ শেষ করা যায় এ ব্যাপারে মেয়রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

 

 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর