Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ আগস্ট, ২০১৯ ০১:৫৯

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে বেসরকারি খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে বেসরকারি খাতে

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত লক্ষ্য ঠিক করেছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত লক্ষ্য ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

মুদ্রনীতিতে সরকারি খাতে এই প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ ডিসেম্বর পর্যন্ত যা হবে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ। যা ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও জুন ২০১৯ পর্যন্ত ছিল ২১ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৮ সালে জুন পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। এবারই প্রথম পুরো অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ষান্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতো। এখন থেকে বছরে একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ফজলে কবির নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর এস এম মুনিরুজ্জামান, আহমেদ জামাল, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, বিআইএফইউ-এর প্রধান আবু হেনা মো. রাজি হাসান, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস কে সুর চৌধুরী, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুদ্রানীতি ঘোষণায় গভর্নর ফজলে কবির বলেন, মূল্যস্ফীতি ৫.৫০ শতাংশ পরিমিত রেখে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ প্রশাসনের লক্ষ্যে ঘোষিত মুদ্রানীতি আগের মতো সতর্কভাবে সংকুলানমুখী রয়েছে। চলতি অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির বহমান জোরালো ধারার সৃষ্ট আস্থা ও মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী রেখে উচ্চতর হারে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক মুদ্রানীতিভঙ্গি ও কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি রেখে মুদ্রানীতির আগাম ঘোষণা করা হলো। তিনি আরও বলেন, নতুন অর্থবছরের মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক- দুই দিকেই কিছু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের ফলে এবং বন্যায় ফসলহানির কারণে বাজার দরে চাপ সৃষ্টি হলে মূল্যস্ফীতি সরকারের প্রত্যাশিত সীমায় বেঁধে রাখা কঠিন হতে পারে। এগুলোর সমন্বিত প্রভাব সমগ্র অর্থবছরে কেমন দাঁড়াবে তার ধারণা পেতে কিছুটা সময় লাগবে। গভর্নর বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রপন্থিদের চলমান দ্বন্দ্ব এবং ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তাকে বৈদেশিক খাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশসমূহের জন্যে এসব অনিশ্চয়তা থেকে লাভজনক সুযোগ গ্রহণের কিছু অবকাশও সামনের মাসগুলোতে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর দুই শতাংশ প্রণোদনা দিতে নীতিমালা করা হচ্ছে। কোনো ভাবে অপব্যবহার না করা হয় এ জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে। আমরা শেয়ারবাজার উন্নয়নের জন্য বন্ড মার্কেট নীতিমালা করছি। পুঁজিবাজারে মাঝে মাঝে উদ্ভব হওয়া স্থবিরতা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরি সহায়তা বজায় রাখা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর