শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৮

রামেক হাসপাতালের প্যাথলজিতে ভোগান্তি

দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রামেক হাসপাতালের প্যাথলজিতে ভোগান্তি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) প্যাথলজি বিভাগ অসৎ উদ্দেশে নানা কায়দায় ভোগান্তিতে ফেলছে রোগীদের। ভোগান্তি এড়াতে রোগীরা ছুটছেন বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। আবার গত ১৪ বছর ধরে চলছে একটিমাত্র মেশিন দিয়ে। বায়োকেমিক্যাল অটো অ্যানালাইজার মেশিনটি যেন ধুঁকছে বয়সের ভারে। মান্ধাতা আমলের এই মেশিনটি মাঝে মধ্যেই বেঁকে বসছে। আর এই সুযোগে দালালদের উপদ্রবও বাড়ছে হাসপাতালে। কোনো রোগীর পরীক্ষার কথা বললেই ওত পেতে থাকা দালালরা ছোবল মেরে রোগীর স্বজনদের হাত থেকে কাগজ নিয়ে যাচ্ছে। এরপর তাদের পছন্দমতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে বাড়তি টাকায় পরীক্ষা করাতে বাধ্য করছে। এভাবে অর্থ আদায়ের একটি চক্রও তৈরি হয়েছে এই হাসপাতালে। রামেক হাসপাতাল সূত্র মতে, এই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও চিকিৎসাধীন মিলে প্রায় ১৫০ জন রোগী আসেন নানা রোগ পরীক্ষার জন্য। চিকিৎসাধীন বেশির ভাগ রোগীই হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে যান চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে। কিন্তু একটা মাত্র অটো অ্যানালাইজার মেশিনটি রোগীদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাধীন রোগীদের পরীক্ষা করাতেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়ে যাচ্ছে টেনে-হেঁচড়ে। কারণ অনেক রোগীর হেঁটে চলার শক্তি থাকে না। আবির হোসেন নামের এক রোগী অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে যে পরীক্ষা ১৫০-৩০০ টাকায় করা যায়, সেই পরীক্ষা বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে হচ্ছে ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।’ প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘আগে বেশির ভাগ রোগ পরীক্ষার রিয়েজেন্ট থাকত। এখন অনেক পরীক্ষার রি-এজেন্ট রামেক হাসপাতালের পাওয়া যায় না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা সেসব পরীক্ষা করতে পারছি না। আবার অটো অ্যানালাইজার মেশিনটি অনেক পুরনো। এটিও সবসময় ঠিকমতো কাজ করে না। মাঝে মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।’ আরেক কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘প্যাথলজির একটা মেশিন ৫ বছর সর্বোচ্চ ভালো সার্ভিস দেয়। এরপর থেকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আমাদের মেশিনটি চলছে ১৪ বছর ধরে। ফলে এখানে সমস্যা লেগেই থাকছে।’ হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস খায়রুল আলম বলেন, ‘পুরনো মেশিনটির কারণে নানা সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি আরেকটি নতুন মেশিন আনার। নতুন মেশিন বসলেই এই সমস্যা থাকবে না।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর