শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪২

চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসকদের কবলে তৃণমূল

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসকদের কবলে তৃণমূল

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ডিসি রোডের মহাজন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ক্লিনিক-চেম্বারের কথিত চার চিকিৎসক-এম ফয়েজ আহমেদ মিলন, রাজিয়া সুলতানা পিংকি, মমতাজ কামাল ও মীরা মল্লিক এমবিবিএস ডিগ্রি না নিয়েই রীতিমতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে আসছেন। গত ৭ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন অভিযান পরিচালনা করে তাদের ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন। গত ৯ জানুয়ারি আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের খুরস্কুল এলাকার গৃহবধূ ছলিমা আকতার মহালখান বাজারে পরিবার পরিকল্পনার অবসরপ্রাপ্ত মাঠকর্মী সেলিনা আকতার নামের এক ভুয়া ‘ডাক্তারের’ হাতে প্রাণ হারান। পরে ভুয়া ডাক্তারের সঙ্গে লাখ টাকার চুক্তিতে গৃহবধূর স্বজনরা বিষয়টি সমঝোতা করেন। তাছাড়া মুচলেকা দেওয়ার পর কথিত চিকিৎসকের চেম্বারটি সিলগালা করে দেয় পুলিশ। এভাবে উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে ভুয়া চিকিৎসকদের অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে সাধারণ রোগীরা। এতে প্রাণহানি, ভুল চিকিৎসায় রোগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযান তুলনামূলক কম পরিচালিত হওয়ায় ভুয়া চিকিৎসকের কাছে তৃণমূলই পছন্দ। সেখানেই তারা নিরাপদে ক্লিনিক-চেম্বার করছেন বলে অভিযোগ আছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন। কিন্তু বর্তমানে এক সঙ্গে কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার পদ শূন্য। ফলে অভিযান কম হচ্ছে।

তৃণমূল জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত করা চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইয়াং সোশ্যাল এক্টিভিজম বোর্ড’ (ওয়াই স্যাব) এর প্রেসিডেন্ট ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি করতে গিয়ে দেখি ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। যাদের নামের আগে ডাক্তার পদবি লেখা আছে, অথচ তাদের বিএমডিসির কোনো নিবন্ধন নেই। এসব কথিত চিকিৎসকের কারণে প্রকৃত চিকিৎসকের দুর্নাম হচ্ছে। সঙ্গে বিভ্রান্ত হচ্ছে রোগীরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।’  

জানা যায়, নগর পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন। ফলে নগরে ভুয়া চিকিৎসকদের তৎপরতা থাকে নীরবে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অনেক কম পরিচালিত হয়। ফলে ভুয়া ডাক্তাররা উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকতে পছন্দ এবং নিরাপদ বোধ করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর