শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৬

বসুন্ধরায় জাপানের নামে সড়ক উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বসুন্ধরায় জাপানের নামে সড়ক উদ্বোধন
ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল ‘জাপান স্ট্রিট’ সড়ক উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান উপস্থিত ছিলেন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দেশটির বিনিয়োগকারীদের সম্মানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি সড়কের নামকরণ হয়েছে ‘জাপান স্ট্রিট’। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোকে সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে সড়কটি উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবদুল মাতলুব আহমাদ, জেসিএক্স ডেভলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ফিতা কাটার আগে বসুন্ধরা চেয়ারম্যান ও জাপানের রাষ্ট্রদূত সড়কটির নামফলক উন্মোচন করেন। সড়কটি উদ্বোধন উপলক্ষে জাপানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জেসিএক্স ডেভলপমেন্টস লিমিটেড জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে স্বাগত জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, জাপান আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাপানের নামে সড়কটির নামকরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, জাইকা বাংলাদেশের অনেক অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। জাপানের বিনিয়োগ এ দেশে আরও আসা দরকার, বিশেষ করে আবাসন খাতে। বসুন্ধরা চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার খুবই ব্যবসাবান্ধব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ২০ বছর মেয়াদি ঋণের সুযোগ দেওয়ায় আমরা খুবই খুশি। এটা আবাসন খাতে বিনিয়োগের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আমি জাপানের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করব তিনি যেন জাইকাকে এখানকার আবাসন খাতে বিনিয়োগের অনুরোধ করেন। এ খাতের বিনিয়োগকারীরা যাতে ২-৩ শতাংশ সুদে ঋণ পেতে পারে। এটা আমাদের দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতে বসুন্ধরা দেশের বৃহত্তম আবাসন প্রকল্প। এটা বাংলাদেশে একমাত্র পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা যেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নেই। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা সদাতৎপর। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃষ্টান্তযোগ্য। আমি সব রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাতে চাই- আপনারা আসুন, আমরা বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদে জমি দিতে পারব। এখানে মধ্য আয়ের মানুষের আবাসনের চাহিদা প্রচুর। তাই আপনারা বিনিয়োগ করুন।

জাপানের নামে সড়কটির নামকরণে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো বলেন, হ্যাঁ, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অংশীদার। আজ জাপান স্ট্রিট নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় সেই বন্ধুত্বে আরেকটি মাইলফলক স্থাপন হলো। এখন বাংলাদেশে ৩০৯টি জাপানি কোম্পানি কাজ করছে। তারা দেখছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সুতরাং, তারাও এখানকার প্রতিটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। একুশ শতকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হবে এটাই আমরা দেখতে চাই। সে উন্নয়নে জাপান সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। জেসিএক্স ডেভলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১২ সালে জাপানিদের নিয়ে বসুন্ধরায় ব্যবসা শুরু করি। আমার শতাধিক প্রকল্প বসুন্ধরায়। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তাঁর সহযোগিতায় আমি এখানে আবাসিক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ আনতে পেরেছি। জাপানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে এখানে অত্যাধুনিক জেসিএক্স বিজনেস টাওয়ার করছি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুরশিদ কুলি খান, আবাসন খাতে বিনিয়োগকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান ক্রিড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসানোবা কামিয়ামা প্রমুখ। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে জাপান স্ট্রিট উদ্বোধনের কেক কাটেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও উপস্থাপিকা মারিয়া নূর।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর