শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০৪

করোনা আতঙ্ক

চট্টগ্রামে ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন বিদেশ ফেরতরা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন বিদেশ ফেরতরা

চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়ায় এক বৃদ্ধের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। এ ঘটনায় নগরের সাতটি ও জেলার ছয়টি এলাকার ১৩টি বাড়ির প্রায় ৪০টি পরিবার লকডাউন করেছে প্রশাসন। সঙ্গে রয়েছে ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা নেওয়া বেসরকারি হাসপাতালটিও। প্রশাসন বলছে, ওই বৃদ্ধের মেয়ে ও মেয়ের শাশুড়ি ১২ মার্চ ওমরাহ পালন করে আসেন। ওই দুই নারী থেকে ওই বৃদ্ধ সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে বিদেশ ফেরত আসা প্রবাসীরা সরকারি নির্দেশনা ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য ও জেলা প্রশাসন। কার্যত এসব বিদেশ ফেরতরাই এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছেন পুরো চট্টগ্রামে। ফলে চট্টগ্রামে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বিদেশ ফেরতরা। আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মধ্যে।      চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৩৯ হাজার ২৮৩ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে আসেন। কিন্তু এর মধ্যে ‘ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তি’ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন করছেন মাত্র ৯৭৩ জন। বাকি ৩৮ হাজার ২৮৩ জন প্রায়ই নিয়ন্ত্রণহীন ছিলেন বলেও অভিযোগ আছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৫৩ জন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে সেনাসদস্য, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা, পুলিশ, র‌্যাবসহ সবাই চেষ্টা করছেন। তাছাড়া বিদেশ ফেরত অনেকেই তথ্য গোপন করার খবরও আসছে। এখন একজনের অসচেতনতার খেসারত সবাইকেই দিতে হচ্ছে। এখন ওই বৃদ্ধের সঙ্গে দূরতমও যাতের সম্পর্ক ছিল, এমন সবার বাড়িই লকডাউন করা হয়েছে।’  জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় সেবাকেন্দ্র আছে ১৭টি। এসব কেন্দ্রের শয্যা আছে ২ হাজার ৩৮৬টি। কভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুতকৃত শয্যা আছে ৩১৫টি, চিকিৎসক আছেন ৬৭৩ জন, নার্স ৯০৫ জন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) আছে চার হাজার ১৮টি, এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দুই হাজার ৬৭৮টি। এছাড়া আক্রান্তদের পরিবহনে সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে ২৪টি। অন্যদিকে, আইসিইউ আছে নগরের এমন ১২টি বেসরকারি হাসপাতালকে চার পর্যায়ে বিভক্ত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।  


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর