শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুলাই, ২০২০ ২৩:৩৮

ভুতুড়ে হাসপাতালের মাসিক ভাড়া ১২ লাখ টাকা

শর্ত অনুযায়ী কোনো সুবিধাই নেই

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহীর খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতাল, এখন করোনা রোগীর জন্য বিশেষায়িত। করোনা উপসর্গ নিয়ে এখানেই ভর্তি হয়েছেন মোর্শেদা বেগমের স্বামী। তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়ায় স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা তার। তাই নিচতলা থেকে অক্সিজেনের সিলিন্ডার দোতলায় টেনেহিঁচড়ে তুলেছেন একাই। সংকটময় মুহূর্তেও মোর্শেদা বেগমকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি হাসপাতালের কেউই। অথচ এ হাসপাতালটির সঙ্গে মাসিক ১২ লাখ টাকা ভাড়ায় চুক্তি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু করোনা রোগীদের জন্য কোনো সুবিধাই নেই প্রতিষ্ঠানটিতে। এমনকি রোগী ভর্তি হওয়া শুরুর পর হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডা. সুব্রত ঘোষও যাননি তিন মাস ধরে।  রাজশাহীতে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালে জীবন বাঁচাতে অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় রোগীদেরই। বিপদাপন্ন অবস্থাতেও রোগীর কাছে এগিয়ে আসেন না হাসপাতালের নার্স কিংবা স্টাফরা। আর নিজেদের নিরাপত্তার অজুহাতে চিকিৎসকরা সবসময়ই থাকেন নিরাপদ দূরত্বে। পুরনো ভবনে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ভুতুড়ে পরিবেশে করোনার চিকিৎসাসেবা নিতে এসে পদে পদে হয়রানি হচ্ছেন রোগীরা। বিশেষায়িত এ হাসপাতালের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ভুতুড়ে পরিবেশই বলে দেয় এখানকার চিকিৎসাব্যবস্থার হাল। রোগীদের অভিযোগ, তারা দেখা পান না চিকিৎসকদের।

আর দূর থেকে কেবল কথা বলা ছাড়া কোনো সহযোগিতাতেই আসেন না নার্সরাও। মাকড়সার জাল, স্যাঁতসেতে পরিবেশ আর দুর্গন্ধে টেকা দায় ওয়ার্ডগুলোতে। রোগী ও স্বজনদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও বালাই নেই এখানে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আমজাদ হোসেন শিমুল জানান, কেবল শুনে চলে যান চিকিৎসকরা। পাশে কেউ আসেন না।

বিশেষায়িত হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনার কারণ জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডা. সুব্রত পাল। পরে অবশ্য স্বীকার করেছেন, প্রায় তিন মাস ধরে দায়িত্ব পালন করলেও নিজে কখনো যাননি এ হাসপাতালে। রোগীদের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিলেও দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকদের অবহেলার কথা স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক। কোনো অভিযোগ থাকলে তাকেই খ াতে হবে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান জানান, খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে প্রথমে সন্দেহভাজনদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তারপর পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রোগীদের কাছ থেকে তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর