শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০৫

ভুয়া মানবাধিকার সংগঠনে ১৮ হাজার চাকরিপ্রার্থী

মাহবুব মমতাজী

পড়াশোনার গন্ডি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। অথচ নামের আগে ব্যবহার করেন ডক্টরেট। তিনি ফরিদ উদ্দিন ফরিদ। তার প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল। তিনি এর চেয়ারম্যান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব তথ্য নকল করে গড়ে তোলেন মানবাধিকার কাউন্সিল। এই প্রতিষ্ঠানের জেলা কমিটিতে রেখেছেন মন্ত্রী ও এমপিদের। আর ওয়েবসাইট সাজিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওয়েবসাইটের আদলে। আর সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঠকাচ্ছেন চাকরি প্রার্থীদের। প্রতারণার এই কৌশলে শেষ রক্ষা হয়নি ফরিদের। গ্রেফতার হতে হয় পুলিশের হাতে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর থানা ও জেলা কো-অর্ডিনেটর পদে ১৪৭ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল। ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি দেখার পরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আর বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেবে ১৪৭ পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১৮ হাজার চাকরিপ্রার্থী। কমিশন খোঁজ নিয়ে দেখে ওয়েবসাইটে দেওয়া সব তথ্য নকল করে তথাকথিত এনজিওটি মানুষকে বোকা বানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির তথ্য নকল করার অভিযোগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপ-পরিচালক এম রবিউল ইসলাম। এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর বনানীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে। এ সময় তাদের বনানী কার্যালয়ে পুলিশ ভুয়া সরকারি নথিপত্র জব্দ করে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন ফরিদ, মঈন উদ্দিন শেখ, ফিরোজ আলী রাসেল, শামসুদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, ফারজানা মেরী, মেহেদী হাসান ও রিফাত রহমান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরদিন ফরিদ উদ্দিনকে দুই দিনের এবং মঈন উদ্দিনকে এক দিনের রিমান্ডে আনে পুলিশ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কাছে অনেকেই ফোন করে জানতে চাচ্ছিল যে, আমরা চাকরির কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি কি না। কিংবা মানবাধিকার কাউন্সিল আমাদের কি না বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান কি না। এতে আমরা বিচলিত হই, কারণ আমাদের এখান থেকে কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। তাদের কথা অনুযায়ী আমি বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল নামের ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে অবাক হয়ে যাই। পুরো ওয়েবসাইটটি আমাদের নকল করে বানানো হয়েছে। এমনকি আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণীটিও হুবহু ওই ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার কমিশনের লোগো ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং মানুষকে ঠকানোর মতো কাজও করে আসছিল ওই চক্রটি। এর পেছনে আরও কারা জড়িত আছে এবং কারা মদদ দিচ্ছে তা বের করার চেষ্টা চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযানের পরদিন কথিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে অনেক চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসেন। প্রতিষ্ঠানটি শুধু চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নয়, পারিবারিক সমস্যা সমাধানের নামেও অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেরই একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে তাদের প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীদেরও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে দেখা গেছে। কথিত এই প্রতিষ্ঠানের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন একজন সাবেক অতিরিক্ত সচিব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর